Translate

Catagory

শনিবার, ১৬ মে, ২০১৫

পছন্দের নারীকে আকর্ষন করার “গোপন” উপায়

বেশ কিছুদিন ধরেই ভালো লেগে গেছে মেয়েটিকে। সারাদিনের চিন্তায় শুধুমাত্র এই একটিই মানুষ। সমস্ত সুখ যেন সেই মানুষটিকে ঘিরেই। সে আপনার আশে পাশে থাকলে পৃথিবীটাকে অনেক বেশি সুন্দর মনে হয় আপনার কাছে। সব কিছুই প্রেমে পড়ার লক্ষণ। 

]কিন্তু সমস্যা একটাই। বুঝতে পারছেন না কিভাবে আপনি আকর্ষণ করবেন সেই মেয়েটিকে। প্রিয় মানুষকে মনের কথা গুলো বলতে হলে এবং রাজি করাতে হলে প্রিয় মানুষটির মনোযোগ আকর্ষণ করা দরকার। আর তাই পছন্দের নারীটিকে আকর্ষণ করার জন্য আপনাকে হতে হবে সচেষ্ট। আসুন জেনে নেয়া যাক পছন্দের নারীকে আকর্ষণ করার ৯টি সহজ উপায় সম্পর্কে।

সুপার ম্যান হওয়া তেমন কোনো কঠিন বিষয় না। শুধু পছন্দের মানুষটির বিপদে পাশে দাঁড়ালে আর ইচ্ছা অনিচ্ছার দিকে খেয়াল রাখলেই আপনি হতে পারবেন তার সুপার ম্যান। সবসময় তাঁর কল ও মেসেজের জবাব দিন আপনার পছন্দের নারীটি যদি আপনাকে খুব শখ করে কল করে কিংবা ম্যাসেজ দেয় তাহলে আপনি যত ব্যস্তই থাকুন না কেন চেষ্টা করুন সেগুলোর জবাব দিতে। একবার যদি অবহেলা করে ফেলেন তাহলে আপনার প্রিয় মানুষটির সাথে আপনার দূরত্ব বেড়ে যাবে অনেকখানি।
দুঃসময়ে উপদেশ না দিয়ে পাশে থাকুন আপনার পছন্দের নারীটির জীবনে দুঃসময় চলছে? তাকে অহেতুক উপদেশ বাণী না শুনিয়ে তাকে সঙ্গ দিন। চেষ্টা করুন সব সময় তার পাশে থাকার। তাহলে সে আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। নিজের চুলের যত্ন নিন নারীরা ছেলেদের চুল খুবই ভালোবাসে। সুন্দর ও পরিষ্কার চুল এবং আধুনিক হেয়ার কাট দিয়ে নিজেকে ফিটফাট রাখুন। আপনার পছন্দের নারী খুব সহজেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। নিজেকে রাখুন দৈহিক ভাবেও আকর্ষণীয় পছন্দের নারীকে আকর্ষণ করতে চাইলে আপনার দৈহিক গঠনের দিকে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত ওজন, খুব কম ওজন কিংবা ভুড়ি আপনার আকর্ষন কমিয়ে দিতে পারে আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে। আর তাছাড়া আপনার শারীরিক গঠন সুন্দর হলে আপনাকে যে কোনো পোশাকেই মানিয়ে যাবে। এখনকার নারীরা ছেলেদের ফিগারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তাই আপনার পছন্দের নারীকে আকর্ষন করতে চাইলে নিজের শারীরিক গঠনের দিকে খেয়াল রাখুন। পারফিউম ছাড়া চলবে না মোটেই! নারীরা সব সময়েই সুন্দর ঘ্রান পছন্দ করে। আর তাই একজন নারীকে আকর্ষণ করার সবচাইতে কার্যকরী একটি উপায় হলো রুচিশীল সুন্দর সুগন্ধী ব্যবহার করা। আপনার পছন্দের নারীর আশে পাশে থাকলে অন্তত সুগন্ধী ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে সে আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আপনার প্রতি তার আকর্ষণ সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্নতা ও স্মার্টনেসের দিকে খেয়াল রাখুন পছন্দের নারীটিকে আকর্ষণ করার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্মার্টনেসের দিকে লক্ষ্য রাখুন। নারীরা স্মার্টনেস পছন্দ করেন। বিশেষ করে ক্যাসুয়াল পোশাকে চাইতে ফরমাল পোশাকেই পুরুষদেরকে বেশি পছন্দ করেন নারীরা। তাই পছন্দের নারীর মন পাওয়ার জন্য নিজেকে সব সময় ফিটফাট ও পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। হাসি ও খাওয়াদাওয়ার মার্জিত ভঙ্গি রপ্ত করুন নারীরা হাসিখুশি পুরুষদেরকে পছন্দ করে। গম্ভীর ধরনের পুরুষদের ধারে কাছেও ঘেষতে চায় না নারীরা। পছন্দের নারীর মন পেতে চাইলে সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। নিজেকে আড্ডা, রসালাপ ও নানান রকম প্রানবন্ত কাজে নিয়জিত করুন। এছাড়াও খাওয়ার দাওয়ার ভঙ্গিতেও হওয়া চাই স্মার্ট। শব্দ করে খাওয়া কিংবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। তাহলে আপনার পছন্দের নারী খুব সহজেই আপনার প্রতি আকর্ষণবোধ করবে। চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখুন পছন্দের নারীর মন পেতে চাইলে তার সাথে সব সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। কথা বার্তার জড়তা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে রাখা নারীরা একেবারেই পছন্দ করেন না। সম্ভব হলে তার প্রতি আপনার আকর্ষণের বিষয়টি সরাসরি বলে দিন। এতে আপনার পছন্দের নারী রাজি হোক কিংবা না হোক আপনার প্রতি তার ধারণা ভালো হবে এবং আপনার নির্ভিকতার প্রতি আকৃষ্ট হবে সে।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

ফেসবুকে যখন প্রেম-ভালো বাসার অন্যতম উদাহরণ হলেন আমাদের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

 ইন্টারনেটের মাধ্যমে আলাপ আজকাল আর নতুন কিছু নয়! বর্তমান সময়ে ফেসবুককে বিবেচনা করা হচ্ছে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশের উল্লেখযোগ্য একটি জায়গা হিসেবে. এবং সেই সাথে সম্পর্ক তৈরিরও. ফেসবুকের বন্ধুরা হয়ে উঠছেন আপনের চেয়েও আপন! টুইটার, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের যুগে বরং ভার্চুয়াল জগতের মানুষরাই আজকাল যেন বেশি আপন. প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুক এখন ব্যাপক আলোচিত. ফেসবুক বন্ধুকে ভালো লেগে যাওয়া, কাছাকাছি আসা, অতঃপর প্রেম- এ যেন এখন ফেসবুকের নিত্যকার কাহিনী. একে অপরকে জানা, মানসিকতা বিচার, জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা লাভ- সবকিছুই হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে. তাই এখন ফেসবুক শুধু সংহতি প্রকাশ বা বন্ধুত্বের মাধ্যম হিসেবে নয়, বিবেচিত হচ্ছে রোমান্টিক সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবেও!


ফেসবুকের সব দিকই ইতিবাচক? না মোটেও! এখানেও রয়েছে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা. এমনকি হতে পারেন হয়রানির শিকারও. ফেসবুকে ব্ল্যাকমেইল ও যৌন হয়রানির মতো অসুস্থ্ আচরণের শিকার হচ্ছেন অনেকেই. এতসব নেতিবাচক ব্যাপার থাকা সত্ত্বেও ফেসবুকে মানুষের আনাগোনা বেড়েই চলছে. চলছে বন্ধুত্ব, প্রেম এবং বিয়েও ... বিয়ের কথায় চমকে গেলেন? ফেসবুকের প্রেমের সম্পর্ক এখন গড়াচ্ছে বিয়েতেও! এর অন্যতম উদাহরণ হলেন আমাদের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান. তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েছেন এই ফেসবুকেই. শিশির সাথে ফেসবুকেই তাঁর পরিচয়, প্রেম. অতঃপর ভার্চুয়াল জগত থেকে এ সম্পর্ক বাস্তব জগতে চলে আসে, অর্থাত্ বিয়ে. ফেসবুক প্রেমে বিয়ের পর- ভার্চুয়াল জগতের মানুষের সাথে বিয়ে হলে দাম্পত্যে হাজির হতে পারে .ম্যাডাম কিছু সমস্যা. যেমন বিয়ের পর হঠাত্ খেয়াল করলেন যে, আপনাদের সম্পর্কের মধ্যে একটা বিশাল ফাঁক রয়ে গেছে. আপনারা একে অপরের সাথে অনলাইনে যতটা স্বচ্ছন্দ, বাস্তবে ততটা নন. ফলে হতে পারে বোঝাপড়ার অভাব. কথায় কথায় লেগে যেতে পারে ঝগড়া, হতে পারে মন কষাকাষি! আর বেড়ে যেতে পারে দুজনের মধ্যে দূরত্ব. আমরা ইন্টারনেটের যে সুযোগ-সুবিধাটা পেয়েছি, তা আমাদের অভিভাবকরা পাননি. ফলে এ ধরনের সমস্যায় তাঁদের পড়তেও হয়নি. দাম্পত্যের এই আজব সমস্যার সমাধান তাঁদের কাছে না থাকায় তাঁরাও এগিয়ে আসতে পারেন না. ফলে সমস্যা যেন আরো প্রকট আকার ধারণ করে. দাম্পত্যের এ সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে আপনাদেরকেই! ফেসবুকের দুনিয়ায় সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও পুরো মানুষটাকে চিনে এবং বুঝে ওঠার জন্য এই মাধ্যমটি যে যথেষ্ট নয়, তা তো বোঝাই যাচ্ছে! ফলে বাস্তব যত কঠোর হোক সেটার সাথে যত দ্রুত মানিয়ে নেয়া যায়, ততই ভালো. কথা কাটাকাটি, ঝগড়াঝাঁটি যাই হোক না কেন, নিজেদের কম্পিউটার স্ক্রিনের আড়ালে রাখবেন না. একে অপরকে এড়িয়ে থাকলে সম্পর্ক কখনোই দৃঢ় হবে না. যদি মতের মিল না হয়, তাহলে সোজাসুজি কথা বলাটা সবচেয়ে ভালো. আসলে, নিজেদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে এটা বুঝতে পারাটাই হলো সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ. নিজেদের সম্পর্কের শর্তগুলি নির্দিষ্ট করুন. এ দায়িত্ব দুজনেরই. একজন যদি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন বা মাত্রাতিরিক্ত স্বাধীনচেতা হন, তাহলে তা সম্পর্কে সমস্যার সৃষ্টি করবেই. যখনই মনে হবে সঙ্গীর আচরণ বা ব্যবহারের জন্য আপনার স্বাধীনতায় বাধা আসছে, বুঝবেন, নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ভালো ভাবে ভাবার সময় চলে এসেছ. তবে জেদের বশে কোনো কাজ করবেন না. এতে শুধু শুধু নিজের সম্মান হারাবেন. স্বাধীনতার সাথে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিবারে কিছু প্রাথমিক নিয়মকানুন প্রয়োজন. যেমন দিনে অন্তত একবেলা সবাই একসাথে খেতে বসা, নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফেরা, একে অন্যের কাজে সাহায্য করা ইত্যাদি. এসব কাজ পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ায়. ফলে সম্পর্কের দূরত্ব ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে. একসাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন. আপনার সঙ্গীকে কাছ থেকে দেখে তাঁকে বোঝার চেষ্টা করুন. ফেসবুকের ব্যক্তি আর বাস্তবের ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করতে যাবেন না. এতে শুধু জটিলতা বাড়বে বই কমবে না! দীর্ঘ সময় দুজন দূরে থাকলে চেষ্টা করুন যোগাযোগটা অনলাইনে না করে ফোনে করতে. আর অনলাইনে করতে হলে ভিডিও চ্যাট করুন. এতে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ থাকবে না. মাঝে মাঝে বাড়ির বাইরে দুজনে দেখা করুন. আলাদা পরিবেশে একজন আরেকজনের মধ্য নতুন ব্যাপার আবিষ্কার করতে পারবেন. ফলে নৈকট্য আরো বেড়ে যাবে. সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকবেই! সেটা প্রেমিক-প্রেমিকার হোক বা স্বামী-স্ত্রীর. ধৈর্য ধরে এগিয়ে যান, সহজে হাল ছেড়ে দেবেন না. . তাহলেই দেখবেন সুখী দাম্পত্যজীবনের খোঁজ খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন ফেসবুকে মনে রাখুন: কাউকে ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যোগ করার আগে তাঁর প্রোফাইল দেখে নিন. শুধু মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের সংখ্যা দেখে কাউকে অ্যাড করবেন না. কাউকে ভালো লেগে গেলে তাঁকে প্রস্তাব দেবার আগে তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর করুন. প্রয়োজনে আপনারদের মিউচুয়াল কোনো বন্ধু, যাঁকে আপনি ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন, এমন দু একজনের সাথে কথা বলুন. ফেসবুকে কেউ তথ্য গোপন করলে তা বুঝতে পারা খুব কঠিন. তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন. সম্পর্ক যত গভীরই হোক না কেন ফেসবুকে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ কথাবার্তা বলবেন না. যাঁরা প্রতারণার উদ্দ্যেশেই সম্পর্ক করে তাঁরা এসবের স্ক্রিনশট রেখে দেয় এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে. কেউ যদি ভালো সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কোনো কুপ্রস্তাব দেয়, তাহলে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন. তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চাইলে এটা প্রমাণ হিসেবে কাজে দেবে. ফেসবুকে প্রেমের ব্যাপারে সতর্ক হোন. প্রেমালাপ ওয়ালে না করে ইনবক্সে করুন. রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস পরিবর্তন করার আগে সম্পর্কের ব্যাপারে নিশ্চিত হোন. ঘনঘন রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস পরিবর্তন করলে তা খারাপ দেখায়. সম্পর্ক যত ভালোই হোক না কেন আইডির পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না. এটা স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য. এতে ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব হয়. অপরিচিত কারো সাথে ভিডিও চ্যাট করবেন না. বাজে পরিস্থিতির মুখমুখি হতে পারেন. হয়রানী বা প্রতারণার শিকার ছেলে বা মেয়ে, যে কেউ হতে পারেন. তাই সতর্ক থাকুন সকলেই. স্বামী বা স্ত্রীকেও রাখুন আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে. এতে সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকবে.

প্রেম-ভালোবাসার অজানা ৫টি তথ্য

 প্রেম-ভালোবাসার নিবেদন সব সময়ই প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। আর এনিয়ে গবেষনারও কোন শেষ নেই। এমনই এক গবেষণা জানা গেল কিছুদিন আগেই যেখানে গবেষকরা মোট ৫টি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। গবেষকদের দাবি, প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে এই ৫টি বিষয়ে কেউই অবগত নন। কাজেই অজানা তথ্যগুলো মানুষকে অবগত করাতেই তাদের এই গবেষনা। এখন জেনে নিন সেই ৫ টি বিষয়: 

১. ভালোবাসা কোনো ব্যক্তিগত আবেগ নয় প্রেমের আবেগতাড়িত অনুভূতিকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাব বলে মনে করা উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কারো প্রতি আপনি প্রেমের অনুভূতি অনুভব করেন, তখন একের কাছে অপরের প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠে। দুজনের প্রতি দুজনের চোখাচোখি, প্রাণরসায়নের টানাপড়েন এমনকি স্নায়ুর মধ্যে মূর্ত হয়ে ওঠা আগুনের স্ফূলিঙ্গ এ প্রতিবিম্ব ফুটিয়ে তোলে। কাজেই ভালোবাসা হচ্ছে পারস্পরিক জৈবিক ঢেউ যা একযোগে দুজনের দেহ-মনে-প্রাণে বয়ে যায়।


২. মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের যোগাযোগকে নিরাপদ করে ভালোবাসা অনেকে প্রায়ই বলেন, যে মানুষরা সামাজিক এবং সামাজিকতার নানা বিষয় দারুণ বোঝেন, তারা নাকি দীর্ঘজীবী হয়ে থাকেন। এমনটি কেনো হয় তা এখনো অজানা। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এক দল মানুষকে যখন তাদের প্রতিদিনের জীবনে যার যার ভালোবাসার মুহুর্তগুলোকে অনুভব করতে বলা হয়, তখন দেখা গেছে তাদের ক্র্যানিয়াল নার্ভের জীবনকাল বেড়ে যায়। এই ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা ভাগুস নার্ভ মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের মধ্যে সংযোগের মূল চাবিকাঠি। 

৩. ভালোবাসার অনুভূতি নেতিবাচক কিছুর অবদমন নয় যদি ভেবে থাকেন ভালোবাসা হচ্ছে দুজনের মধ্যে শুধুমাত্র সুখানুভূতির লেনদেন, তবে ভুল করছেন। দুজনের যন্ত্রণাকাতর অনুভব থেকেও ভালোবাসা বিচ্ছুরিত হয়। নেতিবাচক কোনো আবেগ দমিয়ে রাখাই প্রেম বা ভালোবাসার অনুভব নয়। বস্তুত, দুজনের গোটা মনমানসিকতাপ্রসূত নির্যাসের প্রতি পরস্পরের সহানুভূতি বা পরদুঃখকাতরতাই ভালোবাসার নামান্তর। একের প্রতি অপরের উদারতা এবং পারস্পরিক অনুভূতির সমন্বয়ে কাঠিন্যের বিগলনই ভালোবাসা। 

৪. ভালোবাসা কখনোই বাধাগ্রস্ত নয় আপনার বন্ধুমহল বা পরিবার বা অন্য কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মালে তা মনের অতলে কখনোই বাধাগ্রস্ত হয় না। আপনার মনে যে ভালোবাসার অস্তিত্ব রয়েছে, তার আকার বৃদ্ধিতে আপনি মনের গভীর থেকে কখনোই বাধা পাবেন না। আপনার এ অনুভূতি বাধাহীনভাবে দেহ-মনে ছড়িয়ে পড়বে এবং তার গঠন সচল থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিরাপদ বোধ করবেন। 

৫. ভালোবাসার প্রতি চিন্তাধারার পরিবর্তনে ধারণক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে নিজের ব্যক্তিগত বা পেশাদার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে যদি একান্তে কিছুক্ষণ চিন্তামগ্ন হতে পারেন, তবে দেখবেন অনেক বিষয়েই আপনার ধ্যান-ধারণার আকস্মিক পরিবর্তন আসতে পারে। ভালোবাসার মানুষের প্রতি প্রতিদিনই যদি কিছু সময় ব্যয় করেন, দেখবেন বহু জটিল ক্ষেত্রগুলো আচমকা নতুন সম্ভাবনার পথে ঘুরে যাবে। তখন ভালোবাসার সংজ্ঞা আপনার কাছে নতুন করে ধরা দেবে। কাজেই যাদের মনে জটিলতা রয়েছে, তারা আজই এ কাজের চর্চা শুরু করে দেন।

রবিবার, ১০ মে, ২০১৫

ব্রন সমস্যার কয়েকটি সমাধান

 মানবদেহের ত্বকের গঠন বেশ বিস্ময়কর যা সমস্ত শরীরকে ঢেকে রাখে। ত্বক মূলত তিনটি কাজ করে থাকে। যেমন
 ব্রণ একটি সাধারণ অথচ দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সমস্যা। এটিকে যত্নের সঙ্গে সারিয়ে না তুললে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। ব্রণ দেহের চর্বিযুক্ত গ্লান্ড সেবাকাস টিস্যুতে বেশি দেখা যায়। যেমন মুখ, ঘাড়, বুক ও কাঁধে। তৈলাক্ত ত্বকেই ব্রণ বেশি হতে দেখা যায়। এদিকে ২০-৩০ বছরের পর এর প্রভাব কমে গিয়ে ভালো হয়ে যায়। ব্রণের ফলে মুখ ও ঘাড়ের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় ও মুখে ব্ল্যাকহেড, ছোট গুটি এবং ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্ল্যাকহেড বা কালো তিল। 
 এই ব্ল্যাকহেডগুলো সংক্রামক এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ব্রণ বেশি দিন স্থায়ী হলে মুখে বিশ্রী দাগ দেখা যায়। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এই রোগে বেশি ভোগে। এর সঠিক কারণ অবশ্য নির্ণয় করা যায়নি। তবে মেয়েদের ত্বকের নিচে চর্বির পরিমাণ বেশি এবং হরমোনের পরিবর্তনগুলোও ছেলেদের চেয়ে বেশ প্রকট হওয়ায় ব্রণ দেখা যায় বলে ধারণা করা হয়। ভুল খাদ্যাভাস, অনিয়মিত আহার গ্রহণ, অনুপযোগী খাবার, অত্যধিক শর্করা, অত্যধিক চর্বিযুক্ত খাবার ইত্যাদির জন্য ব্রণ দেখা দিতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ।
অত্যধিক চা কফি অ্যালকোহল পান, তামাক সেবন ইত্যাদিও এর কারণ। আবার বয়ঃসন্ধিক্ষণে রাত জেগে পড়াশোনা ও বসে থাকার ফলে বদহজম সৃষ্টি হওয়া, সাধারণ দুর্বলতা ও দুশ্চিন্তা থেকেও ব্রণ হতে পারে।

  • আমাদের দিনে ৮-১০ গ্লাস পর্যন্ত পানি এবং তেল-ঝাল-মসলাবিহীন খাবার খাওয়া উচিত। 
  • অত্যধিক গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
  • চিনি ছাড়া লেবুর পানি, তাজা ফলের রস, আপেল, নাশপাতি, আঙুর, আনারস খেতে পারলে ভালো হয়। কাঁচা সবজি অঙ্কুরিত ছোলা, ডাল, কাঁচা বাদাম, যব ও লাল চাল খুবই উত্তম। অধিক শর্করা, অধিক মিষ্টি, অধিক চর্বি সবই পরিহার করা উচিত। 
  • কিছু কিছু খাবার ব্রণের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। যেমন—ডুবো তেলে ভাজা খাবার, কোমল পানীয়, সংরক্ষিত খাবার।
  • দেখা যায়, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি৬ ব্যবহারে ব্রণ দূর হয়।
  • যেকোনোভাবেই হোক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা প্রয়োজন।
  • চিকিৎসক এবং ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণ হলে ত্বকের যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। মুখের ত্বকের যত্ন হলো প্রথমে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। তা ছাড়া শসার রস, গাজরের রস মুখে ব্যবহার করলে উপকর পাওয়া যাবে। অত্যধিক গুরুপাক খাবার না খাওয়া, অধিক রাত না জাগা, শরীরে ধুলাবালি, ঘাম জমতে না দেওয়া, অ্যাসিডিটি হতে না দেওয়া উচিত। মাঝেমধ্যে গরম জলের ভাপ নিলে ভালো হয়। ব্রণ সারাতে খনিজ লবণের মধ্যে জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি৬ ভালো কাজ করে। এ জন্য খেতে হবে শস্যজাতীয় খাবার, মাছ, গরুর কলিজা, মসুর ডাল, বরবটি, রাজমা, পনির, গরুর দুধ, কর্নফ্লেকস, ডিম, তেল, মুলাজাতীয় সবজি, তৈলবীজ, বাদাম, সবুজ সবজি ইত্যাদি।

শুক্রবার, ৮ মে, ২০১৫

মেয়েদের অহরহ বলা ১৩টি মিথ্যা কথা

যে ১৩টি মিথ্যা মেয়েরা অহরহ বলে  মেয়েরা কিছু মিথ্যা স্রেফ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করে অথবা পরিস্থিতি সামাল দেয়। অনেক সংঘাত বা তর্ক এড়াতেও তারা এ কাজটি করে। মেয়েরা যে মিথ্যাগুলো বলে তার মধ্যে বিখ্যাত ১৩টি জেনে নিন: 
১. আমি তোমার ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম না। 
২. আমি তোমাকে পছন্দ করি কিন্তু কখন আমার মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হইবে জানি না। 
৩. এখনই যদি আমি রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেই, তবে তোমাকেই বেছে নেব। 
৪. আমি কখনোই বুঝতে পারিনি- এটা আমার এত ভাল লাগবে।
৫.আমার মনে আমাদের বিলটা শেয়ার করা উচিত। সবসময় তুমি দেবে কেন?
৬. যৌনতা মজার বিষয়। 
৭. হোক ছেলেটা টাকমাথার এবং দেখতে খারাপ। কিন্তু টাকা তো আছে। একটা নিশ্চিত জীবন পাওয়া যাবে। 
৮. আমি সবকিছু আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না।
৯. আমি শুধুই তোমাকেই চেয়েছিলাম।
১০. আমি যদি তার সঙ্গে না থাকি,সে আরেকজনকে ঠিকই খুঁজে নেবে।
১১. তোমার কোনো ভুল নেই, আমারই কোথাও ভুল হয়েছে।
১২. তোমার বাড়ির লোকদের সঙ্গে আমি ভালই আছি। হাজার হোক তারা তো আমার পরিবার।
১৩. তুমি যদি বন্ধু হতে চাও-আমার আপত্তি নেই। আমিও তাই ভাবছিলাম। কেন শুধু শুধু জটিলতা ডেকে আনো

কিশোরী জুটির বিবাহের ১ম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে তৈরি করা রোমানটিক ভিডিও .

দুই কিশোরী জুটির বিবাহের ১ম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এক রোমানটিক ভিডিও তৈরি করে আপলোড করল তারা। ভিডিও টি দেখুন এখানে......

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫

প্রথম দেখায় মেয়েরা ছেলেদের যা পছন্দ করে

যারা বিয়ের আসরে বসে বা কোন মেয়ের সাথে ডেট করতে যান। 
তারা নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েই যান তবু কিছু ঘাটতি থেকেই যায়।
 ছেলেদের মাঝে আছে কিছু ভ্রান্তি ধারনা যা তারা ঐ সময় করে। 
প্রথম দেখায় মেয়েরা ছেলের কাছ থেকে যা আশা করে তা নিচের প্রশ্ন গুলো হতে জেনে নিন:

 ১. প্রথমেই মেয়েটি ছেলের কোন বিষয়টা লক্ষ্য করে? উত্তরঃ ৪৪% মেয়ে ছেলেটির হাসি। ২৩% মেয়ে ছেলের হাবভাব। ১৪% মেয়ে ছেলের পোশাক আশাক।১০% মেয়ে ছেলের বডি।৯% মেয়ে ছেলেটির চুল। 

২. মেয়েরা প্রথম পরিচয়ে কোথায় যেতে পছন্দ করে? উত্তরঃ ৪১% মেয়ে ডিনার ও মুভি দেখতে।১৩% মেয়ে ক্যাফেতে।২৫% পিকনিক অথবা বিচ এ।২০% ভাগ খাবার খেতে। 
৩. সব মেয়েরা কি সিগারেট খাওয়া পছন্দ করে? উত্তরঃ ৫০% মেয়ে পছন্দ করে না , ২৮% তারা নিজেও জানে না, ২১ ভাগ মেয়ে পছন্দ করে। বাকিগুলো উত্তর দেয়নি।

৪. দাঁত যাদের পরিস্কার নয় তাদের সাথে ৪৯ ভাগ মেয়ে কথা বলতেই পছন্দ করে না। 
৫. ৫৫% ভাগ মেয়ে মসৃন ত্বক পছন্দ করে। 
৬. ৬৩% ভাগ মেয়ে দরিদ্র ছেলেদের পছন্দ করে। 
৭. ৫৮% ভেজা বিড়াল ছেলেদের পছন্দ করে না। 
৮. ৬৩% মেয়ে নিজেদের চেয়ে বয়সে বড় ছেলেদের পছন্দ করে। 
৯. ১৩% মেয়ে প্রেমিকা আছে এমণ ছেলেদের সাথে প্রেম করতে রাজি। 
১০. মেয়েরা ছেলেদের কি সব চেয়ে বেশি পছন্দ করে? উত্তরঃ ৩৪% মেয়ে সুন্দর চোখ, ২৬% মেয়ে সুন্দর হাসি, ৯% মেয়ে চুল, ১৩% মেয়ে গাল, ৭% মেয়ে স্কিন। 
১১. ৩০% মেয়ে প্রতিষ্ঠিত ছেলে, বাকিসব থাকলেই চলবে, ৪০% প্রতিষ্ঠিত কিন্তু স্মার্ট, ৩০% শুধু প্রেম ভালবাসা।

যে সব নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবেন না

যারা নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে চাইছেন কিংবা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, সে সব পুরুষদের বলছি। জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক না হলে সারা জীবন এর মূল্য দিতে হতে পারে। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদন এমন পাঁচ ধরনের নারীর কথা বলা হয়েছে, যাদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোটা পুরষদের জন্য বিপদজনক। এমন নারীদের এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। সাবেক প্রেমিকাআগে একজনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ছিল। সেটা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ অবস্থায় ভুলও আগের প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যাবেন না। অতীত ভুলে শুধু বর্তমান সঙ্গিনীকে নিয়েই থাকুন। ধরুন, নিভৃত কোনো জায়গায় একাকি বসে আছেন। পুরোনো প্রেমিকার সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তগুলো বার বার মনে হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কী কারণে, কার ভুলের কারণে সম্পর্কের ইতি ঘটল, এসব কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাবছেন, তাঁর সঙ্গে একটু কথা বলে মনটা হালকা করবেন কি না! সাবধান। কোনোভাবেই এমনটা করতে যাবেন না।

এতে মারাত্মক গোলযোগ বেঁধে যেতে পারে, হারাতে হতে পারে বর্তমান সঙ্গিনীকেও। সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বোন সবচেয়ে কাছের বন্ধুটির বোনকে আপনার ভালো লেগে গেল। এ অবস্থায় নিজেকে সংযত করুন। এত দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুটির সঙ্গে সম্পর্কটা এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে। বন্ধুদের সম্পর্কটা নিমিষে পরিণত হতে পারে শত্রুতায়। যাদের সঙ্গে সম্পর্কে‘ঝুঁকি’আছে যে ধরনের মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে আপনার বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকবে, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন। সম্পর্কে জড়িয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগার চেয়ে নিরাপদ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রলোভনকে কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না। পকেট কাটাই লক্ষ্য যাদের এমন মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন, যারা প্রচণ্ড অর্থলোভী। যাদের সঙ্গে সম্পর্ক জড়ালে ফতুর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ ধরনের মেয়েরা নানা বাহানায় আপনার কাছ থেকে অর্থ খসানোর চেষ্টা করবে। তার বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইবে। বিভিন্ন উপলক্ষে দামি উপহার চাইবে। অফিসে আপনার ব্যস্ততার কোনো মূল্য তার কাছে নেই। ‘তোমাকে নিয়ে ভালো থাকার জন্যই তো এত কষ্ট করছি’—আপনার এমন কথাও তার কাছে অর্থহীন। সাবধান, এমন ‘গুণ’সম্পন্ন মেয়েরা স্বার্থসিদ্ধি হলেই আপনার কাছ থেকে সটকে পড়বে। বন্ধুর সাবেক প্রেমিকা বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে মর্যাদা দিন। আপনার কাছের বন্ধুর সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কে জড়াবেন না। এ ধরনের সম্পর্কে জড়ালে সব বন্ধুদের কাছেই আপনি হাস্যরসের পাত্র হবেন। এর পরও যদি বন্ধুর সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েই ফেলেন, সেটা কতটুকু মধুর হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়।

যৌবন ধরে রাখার ছোট্ট ‘গোপন ফর্মুলা’!

 বয়স ৩০ বা ৩৫? পার্লার যাওয়ার সময় পান না?সারাদিনে খুব কাজের চাপ? কি করা যায় তাই ভাবছেন তো? না, সময় না পেলে বাইরে গিয়ে রূপচর্চা করতে হবে না। আবার নামি দামি ক্রিম কিনে অর্থ ব্যয় এর প্রয়োজন নেই। আপনার রান্নাঘরের অতি পরিচিত সামান্য কিছু উপাদান দিয়েই নিজেকে সুন্দর করে রাখতে পারবেন। ত্বকের জেল্লাকে ধরে রাখতে এই উপাদানটি বেশ কার্যকারী।
এটি একটি ফেস প্যাক তৈরির সিক্রেট ফর্মুলা। নিয়মিত এই ফেস প্যাক ব্যবহারে দীর্ঘদিন অটুট থাকবে আপনার চেহারার যৌবন। অ্যান্টি-এইজিং ফেস প্যাকের উপাদানঃ

২ টেবিল চামচ মিহি চালের গুঁড়ো (চাইলে ময়দা ব্যবহার করতে পারেন) 
১ চা চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ তাজা হলুদ গুঁড়ো বা বাটা
৫ চা চামচ কাঁচা দুধ 
গোলাপ জল ১ চা চামচ
শসার রস১ চা চামচ
মধু ১ চা চামচ
মিশ্রণটি বানানোর পদ্ধতিঃ প্রথমে একটি বাটিতে চালের গুঁড়ো বা ময়দা এবং হলুদ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এতে শসার রস ও দুধ দিয়ে পেস্টের মত তৈরি করুন। মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি ভেজা মুখে আলতো ঘষে লাগান। পুরোপুরি লাগানো হয়ে গেলে ১০ মিনিট রেখে দিন। ১০ মিনিট পর আঙুলের মাথা দিয়ে হালকা ঘষে তুলে নিন। এরপর মুখে মধু মাখিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর হাল্কা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে নিয়ে প্রাকৃতিক গোলাপ জল লাগিয়ে নিন আলতো করে। সপ্তাহে ৩/৪ বার এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করুন।

৪০ বছর ধরে লিখে যাচ্ছেন প্রেমপত্র


ভালবাসা দিবসকে অনেকেই অনেকভাবে উদযাপন করেন। তবে আমেরিকার নিউ জার্সিতে এক ব্যক্তি যে রকমটি করছেন সেটা হয়তো স্বাভাবিকভাবে কাউকেই করতে দেখা যায় না। নিউ জার্সির বিল ব্রেসনেন ৪০ বছর যাবত তার স্ত্রীর জন্য লিখে যাচ্ছেন প্রেমপত্র। ৭৪ বছর বয়সী ব্রেসনেন তার স্ত্রী ক্রিসটেনের জন্য ৪০ বছরে লিখেছেন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রেমপত্র। পত্রে তিনি তাদের প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকে কাটানো সময় অনুভূতিগুলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন।
ব্রেসনেন তার লেখা ২৫ বক্স পত্রের বিষয় সম্পর্কে এবিসি নিউজকে বলেন, উদাহরন স্বরুপ আপনি ১৯৮২ সালের একটি দিনকে ধরতে পারেন, হয়তো সেদিন আমরা কোন রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছি অথবা কোন মুভি দেখেছি, সেক্ষেত্রে আমার পত্রে লিপিবদ্ধ থাকে আমাদের সেখানে যাওয়া এবং সেখানকার প্রতিক্রিয়া। কয়েক বছরের ব্যবধানে তাদের দুজনেরই ক্যান্সার ধরা পড়লেও ব্রেসনেন তার প্রেমপত্র লেখা বন্ধ করেননি। তবে ১৪ ফেব্রয়ারি ভালোবাসা দিবসে তাদের কোন বড় ধরনের পরিকল্পনা থাকে না এবং এটা অবাক হওয়ার মত কোন বিষয় নয় কারণ তাদের কাছে বছরের প্রতিটি দিনই ভালোবাসা দিবস। তিনি বলেন, আমরা খুব সাদাসিধে ভাবেই ভালোবাসা দিবস পালন করি। আমরা হয়তো ভালোভাবে রাতের আহার গ্রহন করি এবং বিশেষ কোন ওয়াইন পান করি ও চকলেট খাই। গহনা কেনা এবং অতিরিক্ত খরচ করার আকাঙ্ক্ষাকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়।

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০১৫

‘প্রেম কি কেবল রূপের মোহ/জানিস তোরা কেহ?


 ভালোবাসা—বিধাতার এক বিস্ময়কর মূল্যবান সৃষ্টি। ভালোবাসা চোখে দেখা যায় না। হৃদয়ে হৃদয় রেখে অনুভব করতে হয়। সব কল্যাণ বা মঙ্গলময় ও অকল্যাণ ঘটনার মূলে প্রেম-ভালোবাসা শব্দের রয়েছে নিগূঢ় অস্তিত্ব, নির্ভেজাল সম্পর্ক। প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজকে ভালোবেসে যেমন সম্রাট শাহজাহান গড়েছিলেন কালের সাক্ষী প্রেমের নিদর্শন ‘তাজমহল’, অন্যদিকে হেলেন প্যারিসের প্রেম ঐতিহাসিক ট্রয় সভ্যতাকে করেছে ধ্বংস। সহস্র বছর ধরে প্রেম-ভালোবাসা যেমন সৃষ্টি করেছে শিল্প-সাহিত্য-সভ্যতা, সৃজনশীল কাব্য-কাহিনী, স্মৃতিস্তম্ভ; তেমনি অন্যদিকে সংসার ভেঙে করেছে বৈরাগী, করেছে সন্ন্যাসী, ধর্মান্তর-দেশান্তর। যুগে যুগে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, প্রেমে মশগুল হয়ে রচনা করেছেন অজস্র কবিতা কত শত কবি। তারপরও ভালোবাসা বা প্রেমের সঠিক সংজ্ঞা আজও মেলেনি, জানা যায়নি। তাই তো প্রতিটি ভ্যালেনটাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবস একটি প্রশ্ন নিয়েই হাজির হয়— ‘ভালোবাসা কারে কয়?’ একি শুধুই যাতনাময়? ভালোবাসা নিয়ে কালজয়ী উপন্যাস-গল্প-সিনেমা-নাটক-গান-কবিতা রচিত হলেও সত্যিকার প্রেম রহস্যময়, দুর্বোধ্য। আজও প্রেমের রহস্য এত সুকঠিন, সুবিশাল। প্রেম বিচিত্র বলেই পুরোপুরি জয় করা সম্ভব হয়নি। তাই তো এই শব্দটিতে সবার দুর্নিবার আকর্ষণ।

আর আকর্ষণ থাকবে নাই-বা কেন? ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবীতে আছে কিই-বা! ভালোবাসা মানে কি হাতে হাত রেখে পার্কে ঘোরা? ভালোবাসা মানে কি কাঁধে বা কোলে মাথা রেখে গল্প বলা? ভালোবাসা মানে কি প্রেমিকার চুলের সুঘ্রাণ? না! এসব শর্ত আমি মানি না। তবে কি ভালোবাসা মানে দেহ সীমার বাইরে দুটি শুদ্ধ হৃদয়ের নির্মল আত্মীয়তা! ভালোবাসা মানে নিজেকে কষ্টের আগুনে পুড়িয়ে মনকে খাঁটি সোনা করে গড়ে তোলা। নাকি ভালোবাসা মানে রাধার ডাগর চোখের জল? আর এ প্রশ্নের উত্তর জানা হয়নি বলেই একাকী কেটে গেল এতগুলো বর্ণিল বসন্ত, লাল টক্টকে অনেক ‘ভালোবাসা দিবস’। শুধু ‘ভালোবাসা’ শব্দের মানে খুঁজে পায়নি বলে আজও কাউকে বলা হলো না— ‘পৃথিবীর সব প্রেম দেব নর আর বিশুদ্ধ অন্তর! যদি বলো হেসে, আর— এট্টুসখানি ভালোবেসে চলো যাই-সখী, নিরুদ্দেশে।’ কখনও মনে হয় ভালোবাসা মানে মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের কলির মতো—‘তুমি সুখ যদি নাহি পাও যাও সুখের সন্ধানে যাও/আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়ও মাঝে/আরো কিছু নাহি চাই গো।’ অর্থাত্ তুমি যাকে ভালোবাস তাকে মুক্ত করে দাও। সে যদি তোমাকে ভালোবাসে তাহলে তোমার কাছে ফিরে আসবে। এখানে ত্যাগই মুখ্য। ডেল কার্নেগীর মতে, পৃথিবীতে ভালোবাসার একটিমাত্র উপায় আছে, সে হলো প্রতিদান পাওয়ার আশা না করে ভালোবেসে যাওয়া। অর্থাত্ সেই ত্যাগের গুণেই মহীয়ান হওয়ার কথা। রবীন্দ্রনাথের মতে, ‘প্রেম এমনই বস্তু যা শুধু মস্তিষ্কে নয়, বুকের প্রতিটি রক্তকণিকার মধ্যে উপলব্ধি করতে হয়। তিনি সারাজীবন মানসী প্রতিমার ধ্যানেই মগ্ন থেকেছেন। তাকে স্পর্শ করতে পারেননি। প্রিয়ার বিরহে কাতর কবি নজরুল ইসলামও ধরতে পারেননি রহস্যময়ীর শাড়ির আঁচল। তাই তো তিনি লিখেছেন— ‘নাই-বা পেলাম আমার কণ্ঠে তোমার কণ্ঠহার তোমায় আমি করিব সৃজন এ মোর অহংকার।’ প্লেটো বলেছেন—প্রেমের পরশে প্রত্যেকে কবি হয়ে ওঠে। কয়েক লাইন কবিতা লেখার অপচেষ্টা করে আমি যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছি, এটাও প্রেমের পরশে কি-না বলা মুশকিল। প্রেম এবং পুরুষ দুটোই রহস্যময়! পুরুষেরা অবশ্যই ভিন্ন কথা বলে থাকেন। জে.বি. ইয়েটস বলেছেন, যে পুরুষ একটি নারীকে বুঝতে পারে, সে পৃথিবীর যে কোনো জিনিস বুঝতে পারার গৌরব করতে পারে। তারা পুরুষ বলেই হয়তো নারী হৃদয়ের রহস্য খুঁজেছেন। কিন্তু পুরুষের জটিল মন সমুদ্রের চেয়েও একটু বেশি গভীর নয় কি? যার কখনও তল খুঁজে পাওয়া যায় না, গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। রহস্য উদ্ঘাটন এক জনমে তো নয়ই, আর জনমেও সম্ভব কিনা ভাবার বিষয়। পুরুষের মন কখনও মনে হয় হেমন্তের আকাশ; যা ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। যেখানে কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি, কখনও করে অনাসৃষ্টি। যে আকাশে কল্পনায় শুধু মেঘ হয়ে ভাসা যায়, ঘুড়ি হয়ে ওড়া যায়! বাস্তবে তাকে কখনও ছোঁয়া যায় কি? মনে হয়, দূরে মাটির সঙ্গে মিশেছে কোথাও, তবু ধরতে তারে পারিনি আমি আজও। যুগে যুগে প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে রচিত হয়েছে কত কবিতা, কত গান। প্রেমের তরে কেউ হয়েছে কোরবান। তারপরও ‘ভালোবাসা’ শব্দটির শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়েই গেছে। কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিক, মনীষীরা প্রেমের বিভিন্ন বিচিত্র ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ভালোবাসাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তারপরও ভালোবাসা সমুদ্রের তলদেশের মতোই আজও রহস্যময় হয়েই দেখা দেয়। নিম্নে প্রেমের কিছু সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো। * মানুষের একটি শাশ্বত ও মহান প্রয়োজন হচ্ছে প্রেম। —আনাতোল ফ্রাঁস * ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই। —সেন্ট জিরোথী * যেখানে প্রেম নেই, সেখানে সত্যি নেই। কেবলমাত্র তারই মূল্য আছে যে কোনো কিছুকে ভালোবাসে, ভালোবাসা না থাকলে নিজের অস্তিত্ব না থাকারই শামিল। —ফয়ের বাখ * খ্যাতির চেয়ে ভালোবাসা ভালো। —বেয়ার্ড টেলর * যাকে সত্যিকারে ভালোবাসা যায় সে অতি অপমান, আঘাত করলে, হাজার ব্যথা দিলেও তাকে ভোলা যায় না। — কাজী নজরুল ইসলাম * ভালোবাসা যে পেল না, আর ভালোবাসা যে কাউকে দিতে পারল না, সংসারে তার মতো দুর্ভাগা আর নেই। —কীটস * প্রেম হচ্ছে সবকিছুর শুরু, মধ্য এবং অন্ত। —লার্কভেয়ার * ভালোবাসা তালাবদ্ধ হৃদয়ের দুয়ার মুহূর্তে খুলে দেয়। —টমাস মিডলটন এখানে আশার বাণীর সুর শোনা যায়। তার মানে ভালোবাসা এমনি এক অদৃশ্য শক্তি যার ক্ষমতাবলে পৃথিবীর অনেক অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। ভালোবেসে পাথরেও ফুল ফোটানো সম্ভব; অনেকটা এরকমই। * একমাত্র ভালোবাসাই সারাতে পারে সব রোগ। ভালোবাসার আকাশেই জ্বলে হৃদয়ের শুকতারা। প্রেম জীবনে ধ্রুবতারা। —গ্যাটে * সোনায় যেমন একটু পানি মিশিয়ে না নিলে গহনা মজবুত হয় না, সেরকম ভালোবাসার সঙ্গে শ্রদ্ধা, ভক্তি না মেশালে সে ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। —নিমাই ভট্টাচার্য প্রেম জীবনকে করে ঐশ্বর্যবান, হৃদয়কে করে বিশাল। সার্থক ভালোবাসা দুঃখ-যন্ত্রণা জয়ের মহৌষধও বটে। ধন-সম্পদ ফুরিয়ে যায়, আরাম-আয়েস অন্তর্হিত হয়, আশা শুকিয়ে যায়, রূপ-যৌবন সময়ের ব্যবধানে বিবর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু ভালোবাসা অবিনশ্বর। ভালোবাসা স্বর্গীয়। মানুষ মরণশীল। তাই মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হয়। ভালোবাসা অমর। তাই তো সোফোক্লিস বলেছেন—হে প্রেম, তোমার শক্তি অপ্রতিরোধ্য, তুমি মরণের পরেও হয়েছো জয়ী। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুগে যুগে ফ্যাশনে ও রুচিতে পরিবর্তন এসেছে, বদল এসেছে ভালোবাসা প্রকাশের ধরনেও। তাই বলে প্রেমের তাত্পর্য, পবিত্রতা ভুলে গেলে হবে না। ইদানীংকার বিশেষ করে টিনএজ ছেলেমেয়েরা প্রেমের সঠিক অর্থ এবং যথার্থ মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়ে সাময়িক আবেগে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেহকেন্দ্রিক প্রেমের দিকে বেশি ঝুঁকছে বা ঝুঁকতে চায়। ফলে তারা না বুঝে বিপথগামী হচ্ছে এবং অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়ে সত্যিকার প্রেমের অপমান-অবমূল্যায়ন করছে। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন—যে ভালোবাসা দু’জনের দেহকে দু’দিক থেকে আকর্ষণ করে মিলিয়ে দেয় সে ভালোবাসা নয়, সেটা অন্য কিছু বা মোহ আর কামনা। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, প্রেম হচ্ছে দুটি আত্মার নির্মল আত্মীয়তা। শেক্সপিয়র বলেন, প্রেম চোখ দিয়ে দেখে না, হৃদয় দিয়ে অনুভব করে। প্রেম হাতে হাত রেখে নয়, কোলে মাথা রেখে নয়, চুলের ঘ্রাণ শুঁকে নয়; হৃদয়ে হৃদয় রেখে অনুভব করতে হয়। মন দিয়েই মন ছুঁয়ে দেখতে হয়। কবি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল-শেক্সপিয়রের সঙ্গে একমত হয়ে ছন্দে ছন্দে বলতে চাই— ‘হাতে হাত রাখি না আমি/মনে মন রাখি/ মনের রঙে মন মিশিয়ে/ শুদ্ধ ছবি আঁকি।’ মানুষ সৌন্দর্যপিপাসু। সুন্দর সব সময় মানুষকে টানে, সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু বাইরের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে মনকে ছোট করা উচিত নয়। সময়ের ব্যবধানে রূপ-যৌবন এক সময় বিবর্ণ হয়ে যাবে। মন—যার মধ্যে সযত্নে লুকানো রয়েছে কর্তব্য-বিশ্বাস-ভালোবাসা। এগুলো হচ্ছে শিকড়, তাই চিরসবুজ। দেহসীমার মধ্যে প্রেমকে সীমাবদ্ধ করা নিতান্তই বোকামি। সত্যিকার সৌন্দর্য শুধু মনের চোখ দিয়েই দেখা সম্ভব। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক লিও তলস্তয় যিনি তার প্রিয়া ভ্যালেরিয়া আর্সেনেভকে উদ্দেশ করে বলেন—‘এরই মধ্যে তোমার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে গেছি আমি। কিন্তু বাইরে নয়, তোমাকে ভালোবাসার শুরুটা হোক ভেতর থেকে। তোমার ভেতরটা দেখতে চাই আমি। ভালোবাসতে চাই ভেতরের তোমাকে। তোমার রূপ এক ঝলকে ঝলসে দিতে পারে যে কাউকে। মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারে যে কোনো পুরুষের হৃদয়। তাই রূপ দিয়ে তোমাকে চেনা যাবে না। তোমাকে চিনতে চাই আত্মা দিয়ে। লিউ তলস্তয়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আত্মাকে উপলব্ধি করতে চাই। ভেতরের মানুষটাকে আবিষ্কার করার দুর্গম ইচ্ছা বারবার মনকে তাড়া করে। তাই কবি-দার্শনিকদের মতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ছন্দের মিল খুঁজে ফিরি। অজস্র শব্দে সাজাই কবিতার লাইন— ‘প্রেম কি কেবল রূপের মোহ/জানিস তোরা কেহ? তুষের আগুনে জ্বললেও হৃদয়/শুদ্ধ রাখিস দেহ। ভালোবাসা ভালো বটে/মহাদামি আরো রূপে মুগ্ধ হয়ে সখা/মন ভাঙিস না কারো।’ প্রেমের সংজ্ঞা যা-ই হোক—প্রেম শাশ্বত, প্রেম পবিত্র, প্রেম স্বর্গীয়। ভালোবাসা আছে, থাকবে প্রিয়-প্রেয়সীর হৃদয়জুড়ে, স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে, বন্ধুত্বে, ভাই-বোনের নির্ভেজাল সম্পর্কে, বাবা-মার নির্ভেজাল স্বার্থহীন আদর-যত্নে। শুভাকাঙ্ক্ষী, কোনো কাছের মানুষের শাসনে-বারণে। শুধু ভালোবাসা দিবসটি ঘিরেই ভালোবাসাবাসি নয়, সত্যিকার ভালোবাসা স্থায়ী হোক সবার অন্তরে, সবসময়ের জন্য।

প্রেম-ভালোবাসার অজানা ৫টি তথ্য

 প্রেম-ভালোবাসার নিবেদন সব সময়ই প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। আর এনিয়ে গবেষনারও কোন শেষ নেই। এমনই এক গবেষণা জানা গেল কিছুদিন আগেই যেখানে গবেষকরা মোট ৫টি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। গবেষকদের দাবি, প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে এই ৫টি বিষয়ে কেউই অবগত নন। কাজেই অজানা তথ্যগুলো মানুষকে অবগত করাতেই তাদের এই গবেষনা। এখন জেনে নিন সেই ৫ টি বিষয়: 

১. ভালোবাসা কোনো ব্যক্তিগত আবেগ নয় প্রেমের আবেগতাড়িত অনুভূতিকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাব বলে মনে করা উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কারো প্রতি আপনি প্রেমের অনুভূতি অনুভব করেন, তখন একের কাছে অপরের প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠে। দুজনের প্রতি দুজনের চোখাচোখি, প্রাণরসায়নের টানাপড়েন এমনকি স্নায়ুর মধ্যে মূর্ত হয়ে ওঠা আগুনের স্ফূলিঙ্গ এ প্রতিবিম্ব ফুটিয়ে তোলে। কাজেই ভালোবাসা হচ্ছে পারস্পরিক জৈবিক ঢেউ যা একযোগে দুজনের দেহ-মনে-প্রাণে বয়ে যায়। 

২. মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের যোগাযোগকে নিরাপদ করে ভালোবাসা অনেকে প্রায়ই বলেন, যে মানুষরা সামাজিক এবং সামাজিকতার নানা বিষয় দারুণ বোঝেন, তারা নাকি দীর্ঘজীবী হয়ে থাকেন। এমনটি কেনো হয় তা এখনো অজানা। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এক দল মানুষকে যখন তাদের প্রতিদিনের জীবনে যার যার ভালোবাসার মুহুর্তগুলোকে অনুভব করতে বলা হয়, তখন দেখা গেছে তাদের ক্র্যানিয়াল নার্ভের জীবনকাল বেড়ে যায়। এই ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা ভাগুস নার্ভ মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের মধ্যে সংযোগের মূল চাবিকাঠি। 

৩. ভালোবাসার অনুভূতি নেতিবাচক কিছুর অবদমন নয় যদি ভেবে থাকেন ভালোবাসা হচ্ছে দুজনের মধ্যে শুধুমাত্র সুখানুভূতির লেনদেন, তবে ভুল করছেন। দুজনের যন্ত্রণাকাতর অনুভব থেকেও ভালোবাসা বিচ্ছুরিত হয়। নেতিবাচক কোনো আবেগ দমিয়ে রাখাই প্রেম বা ভালোবাসার অনুভব নয়। বস্তুত, দুজনের গোটা মনমানসিকতাপ্রসূত নির্যাসের প্রতি পরস্পরের সহানুভূতি বা পরদুঃখকাতরতাই ভালোবাসার নামান্তর। একের প্রতি অপরের উদারতা এবং পারস্পরিক অনুভূতির সমন্বয়ে কাঠিন্যের বিগলনই ভালোবাসা। 

৪. ভালোবাসা কখনোই বাধাগ্রস্ত নয় আপনার বন্ধুমহল বা পরিবার বা অন্য কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মালে তা মনের অতলে কখনোই বাধাগ্রস্ত হয় না। আপনার মনে যে ভালোবাসার অস্তিত্ব রয়েছে, তার আকার বৃদ্ধিতে আপনি মনের গভীর থেকে কখনোই বাধা পাবেন না। আপনার এ অনুভূতি বাধাহীনভাবে দেহ-মনে ছড়িয়ে পড়বে এবং তার গঠন সচল থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিরাপদ বোধ করবেন। 

৫. ভালোবাসার প্রতি চিন্তাধারার পরিবর্তনে ধারণক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে নিজের ব্যক্তিগত বা পেশাদার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে যদি একান্তে কিছুক্ষণ চিন্তামগ্ন হতে পারেন, তবে দেখবেন অনেক বিষয়েই আপনার ধ্যান-ধারণার আকস্মিক পরিবর্তন আসতে পারে। ভালোবাসার মানুষের প্রতি প্রতিদিনই যদি কিছু সময় ব্যয় করেন, দেখবেন বহু জটিল ক্ষেত্রগুলো আচমকা নতুন সম্ভাবনার পথে ঘুরে যাবে। তখন ভালোবাসার সংজ্ঞা আপনার কাছে নতুন করে ধরা দেবে। কাজেই যাদের মনে জটিলতা রয়েছে, তারা আজই এ কাজের চর্চা শুরু করে দেন।

"® বিশেষ_করে_আপুদের_উদ্দেশ্যে ®"


 রফিক স্যার আপনাকে যদি জিজ্জেস করা হয় ..... 
"এই পৃথিবীতে কারা বেশি সুন্দর, নারী না পুরুষ ..? " দাঁড়ান ,,,,, বিতর্কে যাওয়ার আগে বলুন ...
★ মুরগী ​​দেখতে বেশি সুন্দর, নাকি মোরগ ..? 
★ ষাড় দেখতে বেশি সুন্দর, নাকি গাভী? 
★ ময়ূর দেখতে বেশি সুন্দর নাকি ময়ূরী ..?
★ সিংহ দেখতে বেশি সুন্দর, নাকি সিংহী ..? 
★ হরিন দেখতে বেশি সুন্দর, নাকি হরিনী ..? 
★ গাধা দেখতে বেশি সুন্দর, নাকি আপনি বললেন ..., ময়ূর, সিংহ, হরিন, মোরগ, গাধা, ষাড় এরাই দেখতে বেশি সুন্দর ...! শুধু তাই নয় .., এমনকি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পিপড়া, ফড়িং থেকে শুরু করে হাতি, জিরাফ হিসাবে চালাতে তাকালেও CHAP .মন্থর পুরুষ জাতিকেই সুন্দর বলবেন ... !! . কোল্ড পুরুষ জাতি তার সেই সৌন্দর্য আর শক্তি এক চমত্কার সমন্বয় তার বিপরীত মরণকাল জাতিকে আকর্ষিত করার চেষ্টা করে থাকে ..! . মোরগ তার পাখা ঝাপটে, ময়ূর তার পেখম মেলে .., সিংহ তার কেশর দিয়ে, বাঘ তার শক্তি দিয়ে. .., সোনা ব্যাঙ মুখে নীল বেলুন ফুলিয়ে আর শব্দ করে .., এমনকি ঝিঁঝিঁ পোকাও তার পাখা ঝাপটে তীব্র শব্দ করে তার প্রিয়জনকে আকর্ষিত করে .. !! . কারন একটাই, মরণকাল জাতি মহামূল্যবান ও লোভনীয় .. পুরুষ জাতির কাছে ... , পুরুষরা সোনা পাওয়ার জন্য এবার কম্পিউটারের সঙ্গে শক্তি দিয়ে, সৌন্দর্য দিয়ে সোনা পাওয়ার জন্য এবার জয় করার চেষ্টা করে .. !! .
 ★★ কিন্তু কম্পিউটারের সঙ্গে প্রাণীজগৎ এ নিয়ম মেনে চললেও .. ,, আমরা মনুষ্য জাতি এতটা নিচে নেমে গেছি যে, আজকের মডার্ন মেয়েরা, নিজেদের সমস্ত কিছু দেখিয়ে, বস্তা বস্তা, আটা ময়দা মেখে, পুরুষদের লালায়িত করছে ... আর, পুরুষরা জানে তারা সুন্দর, তাই তারা কারো কাছ থেকে প্রশংসা পেতে আগ্রহী ব্যস, অপরদিকে, নারীরা দেখতে যেমনই হোক, সোনা পাওয়ার জন্য এবার রূপের প্রশংসা বাসসের করলে সমস্যা .. !! . তাই, আপুদের উদ্দেশ্যে বলি ... "আপনারা অনেক মুল্যবান, মাষ্টার মঃ  'মরণকাল ককুরের ‧; বহু ককুরকে লড়তে দেখেছি, ডিস্কোভারিতে, 'মরণকাল ক্যাঙারুর ‧; দুই ক্যাঙারুর রক্তাক্ত যুদ্ধ দেখেছি ... ,, এমনকি পৃথিবীর টার্মিনাল খুন, কাবিল তার ভাই হাবিলকে খুন করেছিল হাবিলের স্ত্রীর জন্য .... !! যেখানে পুরুষরা আপনাদের ‧; পাগল হবে সেখানে আপনারা এসব করে কেন...................

বিয়ে কোন বয়সে করা ভালো?


 একটা কথা শুনেছিলাম সেদিন। পশ্চিমা এক দেশে একবার একটি কুকুর একটি বাচ্চাকে আক্রমন করে। চারিদিকে লোকজন দাঁড়িয়ে দেখছিলো। কেউ এগিয়ে আসছিলো না তাকে সাহায্য করতে। একজন মানুষ সাহস করে এগিয়ে গিয়ে কুকুরটিকে মেরে বাচ্চাটিকে বাচায়। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে তার এই সাহসি ভুমিকার। লোকজন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাংবাদিকরা এলো তার সাক্ষাতকার নিতে। জিজ্ঞাসা করলো আপনার নাম কী? সে বললো, মুহাম্মাদ। বিস্তারিত সাক্ষাতকার সবাই নিয়ে গেলো ঠিকই। কিন্তু পরের দিন পত্রিকায় এলো ‘মুসলমান সন্ত্রাসীর হাতে নিরীহ কুকুর নিহত’ ইসলাম ও ইসলাম্পন্থীদের বিরুদ্ধাচারিতার ক্ষেত্রে বিধর্মী ও সেক্যুলাররা কখনো কোনো নীতি-নৈতিকতা ও সততার তোয়াক্কা করে না। সব সময়ই ডার্টি গেইম প্লে করে। এমনকি আল্লাহর নবী নূহ আ. থেকে নিয়ে মুহাম্মাদ সা.—কাউকেই এরা ছাড় দেয়নি। কারণ, এদের নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। সেটা হোক বন্ধুত্ব কিংবা শত্রুতা। সকল ক্ষেত্রেই। সমাজের যা কিছু খারাপ কিংবা যা কিছুকে তারা ‘খারাপ সাজাতে’ চায় সব কিছুকে তারা ইসলামের সাথে ট্যাগ করে দেয়। এতে তাদের ফায়দা হলো, অসচেতন মানুষের মধ্যে একটা অবচেতন ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব তৈরি হয়। কিছু দিন আগে একটা নিউজ পড়েছিলাম। এক ছেলেকে তার এক বন্ধু তার বাবার রেখে যাওয়া ১৪ লাখ টাকা ফু দিয়ে দিগুন করার লোভ দেখায়। সে জানায়, তার পরিচিত এক পীর/ফকীর আছে, সে নাকি ফু দিলেই টাকা দ্বিগুণ হয়ে যায়। টাকা দ্বিগুণ করতে বন্ধুকে নিয়ে রওয়ানা হয় ফকীরের বাড়ি। সে আর ফিরে আসেনি টাকা নিয়ে। ফিরেছে তার লাশ। এই সংবাদের কমেন্টে দেখলাম একজন লিখেছে, ‘ধর্মীয় কুসংস্কার মানুষকে কতো অন্ধ বানিয়ে দিতে পারে!’। ডার্টি গেইমের এটাই হলো তাদের লাভ। ঘটনাটি ঘটার পেছনে যেখানে একমাত্র কারণই হলো ধর্মীয় মুল্যবোধের অনুপস্থিতি; সেখানে গোটা দায়ভারটাই চাপানো হলো ধর্মের ঘাড়ে। এমন আরো কতো নিউজ দেখবেন। ‘প্রেমের কারণে যুবতীকে ৮০ দোররা’, ইত্যাদি। খবর নিয়ে হয়তো দেখা যাবে ঘটনা শুধু প্রেমেই নয়, প্রেম হয়তো শরীরেও গড়িয়েছিলো। এরপর গ্রামের মাতব্বররা হয়তো এই কাজ করেছে। পিটুনি দেওয়াটাকে বলা হবে দোররা। আর কয়টি পিটুনি হয়েছিলো সেটা কে-ইবা জানে। বলা হবে ৮০ দোররা। কারণ শরিয়াহ আইনে ৮০ দোররার একটা ব্যাপার আছে। ঘৃণা জন্মানো হবে ৮০ দোররার প্রতি। সহানুভূতি জন্মানো হবে অবৈধ প্রেমের প্রতি। চেপে যাওয়া হবে তাদের শরীর তত্ত্বের আসল ঘটনা। যদিও এখানে মাতব্বররা যা করেছে, যেভাবে করেছে, তার সাথে হয়তো ইসলামী আইনের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। খবরে দেখা যাবে, ‘বিধবাকে জোর করে হিল্লা বিয়ে দেওয়া হয়েছে’। খবরটা এমনভাবে পরিবেশন করা হবে, যেন হিল্লা বিবাহ ইসলামী বিধানের একটি অংশ। অথচ ইসলামের ব্যাপারে ন্যুনতম জ্ঞান রাখলেও জানার কথা যে, এর সাথে ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এমনই তথ্য সন্ত্রাসের শিকার একটি বিষয় হলো রাষ্ট্রের নির্ধারিত বয়স হওয়ার আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাল্য বিবাহ’। শব্দটা দিয়েই একটা অপরাধের আবহ তৈরি করা হয়েছে। এরপর নানা রকম শ্লোগান তৈরি করা হয়েছে। কুড়িতে বুড়ি নয়, বিশের আগে বিয়ে নয়। আরো কতো কী। এর তথাকথিত ক্ষতিকারক দিক নিয়ে নানা তত্ত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। অল্প বয়সে বিয়ে কী কী শারীরিক জটিলতা তৈরি করে তার ফর্দ বানানো হয়েছে। অথচ দেরিতে বিয়ের কারণে যে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক অর্থনৈতিক, পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে মানুষ তা নিয়ে কিন্তু এরা কখনো কিছু বলবে না। কারণ এটা বললে তাদের নোংরা এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করা যাবে না। অল্প বয়সে বিয়েকে মাতৃ-মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ একটি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে যে বায়োলজিক্যালী সে গর্ভধারণের জন্য সম্পুর্ণ উপযুক্ত—এটা সায়েন্টিফিকভাবে প্রমাণিত। মাতৃ-মৃত্যু যদি হয়ে থাকে সেটা অবশ্যই অন্য কোনো কারণে। হতে পারে সেটা অযত্ন অবহেলা, পুষ্টিহীনতা যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া ইত্যাদি। এসবের কারণে তো খোদ বিয়েকে দায়ি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই! এ ধরণের বায়াস কাজ অনেকেই করে। যেমন তামাকমুক্ত সমাজ গড়া নিয়ে যারা কাজ করে তারা সিগারেটের কারণে মৃত্যুর হারকে এমনভাবে দেখায়, যা সত্যিই আশংকাজনক। অথচ রিসার্চ করলে হয়তো দেখা যাবে, তাদের দেখানো মৃত মানুষগুলো সিগারেট হয়তো খেতো ঠিকই, কিন্তু সিগারেটের কারণেই যে তারা মারা গেছে তা কিছুতেই প্রমাণিত নয়। এরা অল্প বয়সে বিয়েকে একটা জঘণ্য নোংরা কাজ হিসেবে উপস্থাপন করে। এরপর এর দায়ভার ইসলামের উপর চাপায়। এটাকে প্রমান করার জন্য আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর সাথে আয়েশা (রা.) এর বিয়ের ব্যাপারটিকে উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে বিয়ে, এই বিংশ শতাব্দিতে আবিস্কৃত কোনো রীতি নয়। পৃথিবীর প্রথম মানবজুটি থেকে নিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে এ রীতি চালু আছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। আর সৃষ্টিগত ও চাওয়া-পাওয়ার দিক থেকে মৌলিকভাবে মানুষের মধ্যে কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি। পৃথিবীর প্রথম মানুষের শারীরিক গঠন যেমন ছিলো, এখনো মানুষের গঠন তেমনই আছে। মৌলিকভাবে চাওয়া-পাওয়া, হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনার কারণ ও কার্যকারণও একই রকম আছে। কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি। অতএব বিয়ে এমন কোনো বিষয় নয়, যাকে আমাদের নতুনভাবে মুল্যায়নের কিছু আছে। আদম (আ.) এর সন্তান-সন্তুতিরা হাওয়া (আ.) এর গর্ভে যেভাবে এসেছিলো আপনি আমিও সেভাবেই এসেছি। আমাদের সন্তানরাও সেভাবেই আসে। ঐতিহাসিকভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বয়সের ব্যাপারটি স্থানীয় রীতি-নীতি ও সামাজিক কালচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। উইকিপিডিয়ার দেওয়া তথ্যমতে প্রাচীন রোমান সমাজেও বিয়ের কোনো নির্ধারিত বয়স ছিলো না। সাধারণতঃ বয়প্রাপ্ত হওয়া বা পিরিয়ড শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেতো এবং তারা সে বয়সেই বাচ্চা জন্ম দিতো। বর্তমান আধুনিক ইউরোপের সবগুলো দেশেই বিয়ের উপযুক্ততার ক্ষেত্রে ছেলেদের বয়স হলো আঠারো; স্কটল্যাণ্ডে তো মাত্র ষোল। অন্য দিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ দেশেই ষোল; কোনো দেশে পনের ও সতেরও রয়েছে। কেউ চাইলে কোর্ট আরও কম বয়সেও অনুমতি দিয়ে থাকে। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একমাত্র মালায়শিয়া ও বাংলাদেশেই ছেলেদের ২১ ও মেয়েদের ১৮ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মালায়শিয়াতে মুসলিমরা শরিয়া কোর্টের অনুমতি নিয়ে এর নিচের যে কোনো বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। আমার জানামতে একমাত্র বাংলাদেশেই বয়সের এই আইন ভঙ্গ করাকে ক্রিমিনাল অ্যাক্ট বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করা হয়। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ইয়েমেন। দীর্ঘ দিন সেক্যুলাররা শাসন ক্ষমতায় থাকলেও এক্ষেত্রে তারা সাধারণ জনগনের উপর কোনো বিধান চাপিয়ে দেওয়ার সাহস পায়নি। সে দেশে প্রত্যেকেরই অধিকার আছে নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধেমতো সময়ে বিয়ে করার। আসলেই ইয়েমেনীরা ভাগ্যবান। আল্লাহর রসূলের কথা শাশ্বত সত্য। তারা সভ্য, তাদের হৃদয় নরম; দ্বীন ইয়েমেনে, প্রজ্ঞাও ইয়েমেনীদের মধ্যে। আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্য এই ইয়েমেন থেকেই ১২ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীর আবির্ভাব ঘটবে। যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা বৈষয়িক এককে আমরা কিছুটা উন্নতি সাধন করেছি সত্য; কিন্তু সমাজের, বিশেষ করে যুবসমাজের নৈতিক অধঃপতন যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এটা কেউই অস্বীকার করে না। একমাত্র হলুদ আলোর সমর্থকেরা ছাড়া। সবাই-ই স্বীকার করেন যে, নৈতিক দিক থেকে আমাদের বাপ-দাদাদের যুগ আমাদের এই যুগের চেয়ে অনেক ভালো ছিলো। অশ্লীলতার প্রাদুর্ভাব এতো মারাত্মক তখন ছিলো না। সেই সমাজের বিয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন আমাদের পল্লি কবি। তিনি লিখেছেন, ঐখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে                          তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতোটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ                        পুতুলের বিয়ে ভেঙ্গে গেল বলে কেদে ভাসাইতো বুক এখানে পুতুল খেলার বয়সে বিয়ের মধ্যে আমাদের দুমুখো প্রগতিশীলেরা নান্দনিকতা খুজে পেলেও, আয়েশা (রা.) এর পুতুল খেলার বয়সে বিয়ের মধ্যে তারা ঠিকই ধর্মান্ধতা ও ভয়ংকর অমানবিকতার গন্ধ খুজে পান! এসব প্রগতিশীলদের ব্যাপারে মন্তব্য করতেও রুচিতে বাধে। বিচারের দায়িত্ব পাঠকদের উপরই ছাড়লাম। অনেকেই বিয়ের এই বয়স নির্ধারণকে আমাদের দেশের জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে যৌক্তিক ঠাহর করতে পারেন। তাদের জন্য ইনশা আল্লাহ শিঘ্রই আমি জনসংখ্যার উপরে একটি আর্টিকেল লিখবো। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সার্বিক বিবেচনায় ভালো না মন্দ—সে বিষয়টি সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরবো ইনশা আল্লাহ। মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা মানুষের মধ্যে তার বিপরিত লিঙ্গের প্রতি এক সহজাত আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। একের জন্য অন্যের সান্নিধ্যের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি ঢেলে দিয়েছেন। আর এই সান্নিধ্য প্রাপ্তির আইনগত, ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়মের নাম হলো বিয়ে। ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। নারীরও নয়, পুরুষেরও নয়। পুরুষের বয়স বেশী হবে না নারীর—তা নিয়েও কিছু বলেনি। এটা মানুষের স্থান-কাল-পাত্র, পরিবেশ-প্রতিবেশ, মন-মনন, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও রুচিবোধের উপর ছেড়ে দিয়েছে। ইসলাম যেহেতু গোটা সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহর দেওয়া ধর্ম। তাই মানুষের মানুষের স্বভাবজাতপ্রবণতা বা ফিতরাতের দাবীকে কখনো উপেক্ষা করেনি। কোনো রকম ভান-ভনিতা, লৌকিকতা ও কপটতার আশ্রয় গ্রহণ করা হয়নি। মানুষের স্বভাবজাত কোনো প্রবণতাকে যদি কোনোভাবে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হয়, তখন ব্যাক-ফায়ার অনিবার্য। পানির স্বাভাবিক স্রোত যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সে নিশ্চয়ই বিকল্প পথ বের করে নিবে। আপনারা যারা গ্রামেগঞ্জে গিয়েছেন তারা হয়তো একটি ব্যাপার দেখে থাকবেন। বদ্ধ পুকুর বা জলাশয়ে পানি আসা-যাওয়ার যদি নালা না থাকে তাহলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হয় পানির নিকটতম স্রোতধারার সাথে। যেটাকে আমাদের অঞ্চলে বলা হয় ‘হাইত্তা’। ২১ ও ১৮ বছর পর্যন্ত বিয়ে নিষিদ্ধ করে যে স্বাভাবিক স্রোতকে বন্ধ করা হয়েছে, তার বিকল্প ‘হাইত্তা’ আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। ডাস্টবিন থেকে নবজাতক উদ্ধার। অমুক অমুক এলাকায় রমরমা দেহ ব্যবসা। এক দড়িতে ঝুলে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা। পত্রিকার পাতায় স্থান না পেলেও আপনি, হ্যা, আপনিও এমন অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী। নিজ পরিবার, আত্মিয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী আপনি নিজেই। আমাকে এর উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে না। যে সমাজে নাটক-ছিনেমা, গল্প-উপন্যাসে, রেডিও-টিভি-বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনে সারাক্ষণ মানুষকে সুড়সুড়ি দেওয়া হয়। যে সমাজে পর্ণছবি বাজারের আলু-পটলের মতো বিক্রি হয়; যে সমাজে অনলাইনে নোংরামী মাত্র একটি ক্লিকের মধ্যে সহজলভ্য করে দেওয়া হয়। অন্য দিকে সহজাত চাহিদা পুরণের বৈধ পথ বন্দ করে দেওয়া হয়, সেখানে পরিস্থিতি কেমন রুপ ধারণ করতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা এখনও টের পাননি, একটু অপেক্ষা করুন। আমাকে আর বুঝিয়ে দিতে হবে না। আপনিই টের পাবেন হাড়ে হাড়ে। আপনার কলিজার টুকরা কন্যা, প্রাণপ্রিয় ছেলেই আপনাকে প্র্যাকটিক্যাল করিয়ে দেবে। সত্যিই ভাবনার বিষয়! যেখানে ১৮ বছর বয়সে একজন মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মতো জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার উপযুক্ত হয়; সেখানে তাকে বিয়ের মতো একটা একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয় ‘তুমি অনুপযুক্ত’। বিচিত্র! সত্যিই বিচিত্র!! বিয়ে-শাদী দেরিতে হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বাস্তববাদিতা, দায়িত্বশীলতা ও পরিপক্কতারও মারাত্মক অভাব পরিলক্ষিত হয়। এই ছ্যাবলামোর প্রভাব সমাজ জীবনেও প্রতিফলিত হয়। এমন দৃশ্য আপনাদের চারপাশে অহরহ দেখে থাকবেন যে, ২৫-২৬ বছরের এক শক্ত সামর্থ্য যুবক বাপের হোটেলে খায় আর আড্ডাবাজি করে বেড়ায়। সমাজে কোনো অবদান তো রাখেই না, কারো দায়িত্ব তো নেয়ার মুরোদই নাই; বরং সে নিজেই সমাজের জন্য একটা বোঝা, একটা অভিশাপ। রেস্পন্সিবিলিটি ছেলেদেরকে ‘পুরুষ’ বানায়। শুধু প্যান্ট পরা অর্থে পুরুষ নয়, বাস্তব অর্থে। তার চিন্তা-চেতনায় ও আচার আচরণেও তা ফুটে ওঠে । কথায়ও বলে, A man is not MAN until he takes the responsibilities of others. পুরুষ ততোক্ষণ পর্যন্ত পুরুষ হয় না, যতোক্ষন সে অন্যের দায়িত্ব ঘাড়ে না নেয়। আর এটা যতো তাড়াতাড়ি হবে, সমাজ জীবনেও ততো তাড়াতাড়ি দায়িত্বশীলতার প্রভাব পড়বে। ইসলাম বিয়ের কোনো বয়স নির্ধারণ না করলেও নীতিগতভাবে প্রাপ্ত-বয়স্ক ছেলে-মেয়েদেরকে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পবিত্র ও দায়িত্বশীল জীবন যাপনে উৎসাহ দেয়। অতএব আমরাও আমাদের স্রষ্টার নির্দেশনা মানতে চাই। আমাদের অধিকার ফেরৎ চাই। আমরা চাই, আমাদের ছোট ভাই-বোনেরা, ছেলে-মেয়েরা ছাড়া গরু ছাগলের মতো এ ক্ষেতে সে ক্ষেতে মুখ দিয়ে না বেড়াক; তারা দায়িত্বশীল হোক, তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা আসুক; তারা পৃথিবীতে অধিক প্রোডাকটিভ ও মেচিউরড ভুমিকা পালন করুক। আল্লাহ আমাদেরকে সত্য উপলব্ধির তাওফিক দান করুন। আমীন! আমীন!! আমীন!!!

নারীর চোখে আদর্শ পুরুষের ৩০টি বৈশিষ্ট্য্

 মেয়েরা কেনাকাটা, ঘুরে বেড়ানো, সিনেমা দেখা ইত্যাদি কাজ করতে দারুণ ভালোবাসেন। এ কথা সবাই জানেন। আর এসব কাজে সঙ্গী হিসেবে যাকে পেতে চান অর্থাৎ প্রেমিক বা হবু জামাইবাবুটির মাঝেও কিন্তু বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে চান নারীরা। মেয়েদের এসব চির রহস্যময় আকাঙ্খা উন্মোচনে সম্প্রতি গবেষণা চালিয়েছে এক ফ্যাশন হাউজ। মেয়েদের চোখে একেবারে 'আদর্শ পুরুষ' বলতে যা বোঝায়, তা হতে হলে ৩০টি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে আপনাকে। এ তালিকাটি তুলে ধরা হলো আপনাদের জন্য। ১. ঝাড়া ৬ ফুট উচ্চতা 
২. পেশীবহুল, একহারা এবং অ্যাথলেটিক দেহের অধিকারী 
৩. বাদামী চোখ 
৪. ছোট কাল চুল 
৫. রুচিশীল পোশাক সম্পর্কে ধারণা আছে 
৬. স্টাইলিশ 
৭. পানীয়ের ব্যাপারে সচেতন 
৮. অধূমপায়ী 
৯. রুচিশীল জিন্স, শার্ট এবং ভি গলার গেঞ্জি বাছাইয়ে পারদর্শী 
১০. মাত্র ১৭ মিনিটেই বাইরে যেতে প্রস্তুত হতে পারেন 
১১. সৌখিনভাবে জীবনধারণে উপার্জনক্ষম 
১২. পরিবারের বন্ধন চান 
১৩. কেনাকাটা পছন্দ করেন 
১৪. গোশত খেতে পছন্দ করেন 
১৫. গোসলে বাছাই করা সাবান ব্যবহার করেন 
১৬. ক্লিন শেভ করেন 
১৭. মসৃন চওড়া বুক 
১৮. ফুটবল খেলা দেখতে পছন্দ করেন 
১৯. স্টাইলিশ গাড়ি চালান 
২০. শিক্ষিত 
২১. অন্তত প্রেমিকা বা স্ত্রীর চেয়ে বেশি আয় করেন 
২২. কৌতুক করেন এবং নিজেও হাসেন 
২৩. সঙ্গিনীর মন খারাপে তারও মন খারাপ থাকে 
২৪. সত্যিকার অর্থেই সঙ্গীনিকে ভালোবাসেন 
২৫. অন্য নারীর দিকে তাকালে তা স্বীকার করেন 
২৬. ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে 
২৭. সাঁতার কাটতে পারেন
২৮. বাইক চালাতে দক্ষ 
২৯. গাড়ি বা বাইকের চাকা বদলাতে পারেন 
৩০. প্রতিদিন নিজের মায়ের খোঁজ নেন.

* শহীদের রক্তের দাগ যেভাবে মুছে গেল 'ভালোবাসা দিবসের' জোয়ারে *

 কালের রথের চাকা অবিরত ঘুরছে. কালের যাত্রার ধ্বনি কেউ হয়তো শুনছে বা কারো সে দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই. সময়ের রফিক স্যার স্রোতে নতুন ইতিহাসের জন্ম হচ্ছে, কোন ইতিহাস নতুন দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে প্রেরণা দিচ্ছে, কোনটি মুছে যাচ্ছে, কিংবা মুছে ফেলা হচ্ছে. সময়ের আবর্তনে প্রত্যেকটা বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটা বাঙালির কাছে অন্যরকম আবেদন নিয়ে হাজির হয়. এই একটা মাস এলেই সুপ্তিমগ্ন জাতি হঠাৎ খানিকটা সম্বিত প্রাপ্ত হয়ে ভাষা বিকৃতির জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করে. সর্বোপরি ভাষা প্রতিযোগ, অনুযোগ, ভাষা প্রীতিজনিত আধিখ্যেতা, লেখক প্রকাশকদের বইমেলা উপলক্ষে তৎপরতা আর উদযাপনের বাগাড়ম্বতা বুঝিয়ে দেয় মাসটা ফেব্রুয়ারি. তারপর আবার বিগত দুই দশক যাবত সাড়ম্বরে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন ফেব্রুয়ারির ব্যাতিক্রমী মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে. দিবসখানা এলেই তরুণ-তরুণীর প্রেমের ফল্গুধারা দামিনী বেগে ধাবিত হয়, সদ্যোজাত শিশুও বোধ করি প্রচার যন্ত্রের কল্যাণে তারিখটা অন্তরে-মস্তিষ্কে প্রোথিত করে নেয়. প্রয়াত বরেণ্য লেখক হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন "" বাঙালি আন্দোলন করে, সাধারণত ব্যর্থ হয়, কখনো কখনো সফল হয়; এবং সফল হওয়ার পর মনে থাকে না কেনো তারা আন্দোলন করেছিলো "." উক্তিটির অবতারণার কারণ 14 ই ফেব্রুয়ারি কিংবা ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে এর চেয়ে ভালো কোন উদ্ধৃতি দেয়া অসম্ভব.

আত্মবিস্মৃত জাতির চেতনার মর্মমূলে অনেকেই বারে বারে আঘাত হেনেছেন, জানি না কতটুকু সফল হয়েছেন, সফল হলে বোধ করি আমাকে লিখতে হত না. ইতিহাসের পাতা ওল্টাই.ফিরে যাই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে. বিনা রক্তপাতে সামরিক অভ্যুথানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণকারী জেনারেল এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলার সংশপ্তক ছাত্রসমাজ.মজিদ খান প্রণীত বৈষম্যমূলক ও বাণিজ্যিকীকরণের শিক্ষানীতি প্রত্যাখ্যান করে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ও মিছিলের ডাক দেয়. সেই মিছিলে এরশাদের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী হামলা চালায়. বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে ছাত্রনেতা জয়নালকে, গুলিতে নিহত হয় কাঞ্চন, প্রাণ হারায় দীপালি সাহা নামে এক অবুঝ শিশুর. সেই দিন এরশাদ নিজের অজান্তে বারুদে আগুন দিয়েছিল, আর সেই বিদ্রোহের আগুন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিল জাতির সমস্ত চেতনায়. জয়নাল-কাঞ্চনদের দেখানো পথে হেঁটেছিলেন নূর হোসেন, ডাঃ মিলন সহ নাম না জানা আরো অনেকে.আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হয়, গণতন্ত্রের পতাকা শহীদের রক্তে স্নাত হয়ে আবার উড্ডীন হয়. স্বাধীনতা পরবর্তী এই বৃহৎ আন্দোলন সংগ্রামের উদবোধন লগ্ন ছিল ফেব্রুয়ারি মাসের একটা তারিখ. 14 ই ফেব্রুয়ারি.ছাত্রজনতার প্রথম প্রতিবা্দ, প্রথম বিক্ষোভে ফেটে পড়া, প্রথম আত্মদান, সামরিক বেষ্টনী থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য.কিন্তু হায়! বিশ্ববেহায়ার আরশ কাঁপানো সেই শহীদী আত্মদান ভ্যালেন্টাইন্স ডে "র আড়ালে চাপা পড়ে গেছে অনেকটা নিঃশব্দে.ধুর্ত শেয়াল এরশাদ অবৈধ ক্ষমতাকে জনগণের কাছে জায়েজ করার জন্য অনেক কুকর্ম করেছিলেন. যেমনি ভাবে ইসলামকে বানিয়েছিলেন রাষ্ট্রধর্ম. নিজের ললাট থেকে অমোচনীয় কলঙ্ক তিলক মুছে ফেলার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকা এরশাদের সাথে হাত মেলালেন বুদ্ধিজীবীর লেবাস ধারণকারী তারই মত আরো এক খচ্চর প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নপুংসক শফিক রেহমান.রেহমান সাহেব আমদানি করলেন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস.প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে দিলেন বাংলার নগর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ .ধুয়ে দিলেন সংগ্রামমুখর জাতীয় ইতিহাস. উদ্ভট উট এরশাদ এক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন.জয়নাল-দীপালীর রক্তের দাগ মুছে ফেলেছেন জাতির স্নৃতি থেকে, শফিক রেহমানের হাত ধরে গঙ্গায় ডুব দিয়ে নিজের শ্রীচরিত্রকে আরো পরিশুদ্ধ করেছেন, উপস্থাপন করেছেন একজন সংস্কৃতিমনা হিসেবে.বঙ্গজননীর আঁচল জেনারেল এরশাদের বুটের আঘাতে শত ছিন্ন হলেও লুটপাটের প্রশ্নে, ক্ষমতার গদিতে আরোহণের স্বার্থে আমাদের হাসিনা ও খালেদা মা কিন্তু ওই খচ্চরটাকে পালাক্রমে নিজেদের আঁচলের তলায় আশ্রয় দিয়েছেন.শফিক রেহমান এরশাদকে দিয়েছে ঢাল, খালেদা জিয়া শিরস্ত্রাণ, হাসিনা দান করেছেন বর্ম .আর আমরা আত্মবিস্মৃত, নির্লিপ্ত, নিবীর্যের মত হুজুগের কৃষ্ণগহবরে অর্পণ করেছি সংগ্রামী ঐতিহ্য, শৌর্য, বিবেক, চেতনা. এই যে কথিত ভ্যালেন্টাইন্স ডে, কি এর ইতিহাস? আমি গরু খোঁজার মত করে যা পেলাম তা হচ্ছে সম্পুর্ণ গাজাখুঁড়ি মার্কা, উদ্ভ্ট, ক্ষেত্রেবিশেষে বানোয়াট. একই দিবস অথচ ইতিহাস একাধিক তথ্য প্রদান করে যা স্রেফ ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের মত.একটা ইতিহাস এরকম খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রোমে এক ধরনের উৎসবের প্রচলন হয়. এ উৎসবে তরুণীরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে নাম লিখে বাক্সে জমা রাখত. এরপর রোমান যুবকেরা লটারির মাধ্যমে এক বছরের জন্য কোন তরুণীকে সংগী হিসেবে পেত.আবার বছর শেষে লটারি করা হত নতুন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য. এ সংস্কৃতি প্রায় 800 বছর ধরে চলেছিল. কিন্তু কোথায়ও উল্লেখ করা হয়নি সঙ্গী নির্বাচনের কাল 14 ই ফেব্রুয়ারি.ক্যাথলিকদের মতবিরোধের কারণে এ ধারা পরিবর্তন করে নতুন ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়. তখন রোমানরা ভ্যালেন্টাইনকে হাজির করে. এ ভদ্রলোক নাকি প্রেমের জন্য আত্মবিসর্জন দিয়েছেন .তো তার আত্মত্যাগ কিরূপ? ২70 খ্রিস্টাব্দের রোম সম্রাট ক্লডিয়াস বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন.ভ্যালেন্টাইন মহাশয় মানুষকে প্রেমে উৎসাহিত করতেন. সম্রাটের রোষানলে পড়ে বেচারার মাথা যায়. প্রাপ্ত তথ্য মতে ভ্যালেন্টাইনের শিরচ্ছেদের তারিখ ২4 ফেব্রুয়ারি 14 নয়.আবার বলা হয় ভ্যালেন্টাইন একজন সন্ত. সুদর্শন সন্ত ভ্যালেন্টাইনের রূপে মুগ্ধ রাণী ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে ফেলে.ভ্যালেন্টাইনের সাথে রাণীর পরকীয়া বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ক্ষুদ্ধ রাজা অভাগা ভ্যালেন্টাইনের শিরচ্ছেদ করেন. এ সব তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস যে কতটুকু বানোয়াট, সামঞ্জস্যহীন, পৌরণিক কাহিনী অনুকরণে কাট পেস্ট করে মেরে দেওয়া তা আর বলার প্রয়োজন নেই.আরো একটু স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় কর্পোরেটদের নগ্ন বাণিজ্যের বেশ্যাবৃত্তির প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই ভালোবাসা দিবস. হলমার্কের মত বৃহৎ গিফট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন পণ্য বিক্রয়ার্থে কাল্পনিক দিবস সৃষ্টি করে প্রচার যন্ত্র মারফত সমগ্র বিশ্বের তরুণ-তরুণীকে প্রেমের নামে স্থূল, উদযাপন সর্বস্বতার ঘোরটোপে বন্দী করে ফেলতে পারে তখন খানিকটা হলেও কর্পোরেটদের অপরিমেয় শক্তি সন্মন্ধে আঁচ করা যায়. পুঁজিবাদী সমাজের পণ্যায়নের অখন্ড বৃত্তের কেন্দ্রে ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের প্রেম, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব.বিশ্বায়নের নামে সংহার করে চলেছে অনুন্নত দেশের সংস্কৃতি.পয়দা করছে, আমদানি করছে এক উদ্ভট, বিকৃত ও ভোগবাদ সর্বস্ব জীবনাচারণ. প্রেম মানুষের সবচেয়ে সুকুমার ভাবাবেগ, উচ্চতর হৃদয়বৃত্তির বিকাশ যার বৈচিত্র্যময় শৈ্ল্পিক আত্মপ্রকাশ, বিকাশ ঘটে ষোড়শ শতকে বুর্জোয়া বিপ্লবের অব্যবহিত সময়গুলোতে. শেক্সপীয়রের অমর নাটক রোমিও-জুলিয়েটের ট্র্যাজিক পরিণতির মধ্যে ছিল সামন্তীয় সমাজ ভাঙ্গার আর্তনাদ, ছিল প্রতিবাদ সেই সমাজের বিরুদ্ধে যা মানুষের মানবিক বিকাশ রুদ্ধ করে দেয়.সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার বাণী ধারণকারী বুর্জোয়া বিপ্লব মানুষের মুক্তির বারতা নিয়ে আবির্ভুত হয়েছিল. ঘটিয়েছিল মানুষের অনুভূতির নান্দনিক বিকাশ শিল্পে, সাহিত্যে, কাব্যে, সংগীতে, ভাস্কর্যে, চিত্রকলায়. কিন্তু ইতিহাসের আমোঘ নিয়মে সেই প্রগতিশীল সমাজ আজ অশ্লীল বেনিয়াবাদ তথা মুনাফাবৃত্তির জন্য সংহার করে চলেছে মানুষের প্রেম, মনুষ্যত্ব, চেতনা. কর্পোরেটওয়ালারা পণ্যের ক্ষণস্থায়িত্বের সাথে আমাদের মানবিক আবেগগুলো সঙ্গতিপুর্ণ করে ফেলেছে. স্থূল, দৈহিক কামনা তাড়িত, বর্তমান ভালোবাসায় নেই প্রকৃত সুকুমারবোধের নির্যাস.ভালোবাসা স্থানান্তরিত হয়েছে ফাস্টফুডের দোকানে, গিফটের প্যাকেটের ভেতর আর মোবাইল ফোন কোম্পানির হাতের মুঠোয়.আর তাই আজকের প্রেম ভালোবাসা উদযাপন সর্বস্ব, ক্ষণস্থায়ী, অনেকটা কর্পোরেটদের বানানো ভালোবাসা দিবসের কাহিনীর মত ঠিক যেভাবে রোমান তরুণ -তরুণীরা প্রত্যেক বছর সঙ্গী পরিবর্তন করত লটারির মাধ্যমে.অবাক হওয়ার কিছুই নেই যখন দেখা যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোন অখ্যাত তরুণের কণ্ঠে ভেসে আসে "চলে গেছ তাতে কি / নতুন একটা পেয়েছি তোমার চেয়ে অনেক সুন্দরী .... আমাদের অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে কারণ রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান কিংবা জীবনান্দের কবিতা আজকাল্ আধুনিক প্রেমের হাটে বিকোয় না, তরুণদের ভালোবাসা জাগ্রত করে না, প্রবল উন্নাসিকতা থেকে একটিই আওয়াজ বের হয় "উফ শিট ম্যান, রবি ট্যাগর এ ব্যাকডেটেড গাই, জাস্ট ঘুম আনে আর কিচ্ছুই না". আজকাল পত্রিকাওয়ালা কিংবা টেলিভিশন মিডিয়া সোৎসাহে প্রেমের কনসাল্টেন্সি প্রদান করে, কাকে বেছে নেওয়া যায়, কিভাবে পটানো যায়, কিভাবে সতর্ক থাকা যায় প্রতারণার হাত থেকে. 14 ই ফেব্রুয়ারি দিনটিতে টেলিভিশন চ্যানেল গুলো চেঁচিয়ে মরবে আর পত্রিকাওয়ালাদের কলম ভাংবে ভালোবাসার জয়গান গাইতে গাইতে লিখতে লিখতে. কিন্তু এরা কেউ একবারো বলবে না আজ স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস, জয়নাল দীপালির রক্তে স্নাত, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে শাণিত চেতনাবোধের প্রথম উজ্জীবন লগ্ন.বলতে দ্বিধা নেই আমাদের সংগ্রামী চেতনা ক্রমঅপসৃয়মান, জাগ্রত হওয়ার কোন স্পৃহা আমাদের মধ্যে কাজ করে না. জাগার কোন সুযোগ আছে কি? কারণ জাগরণের গানে পৃষ্টপোষকতা করে কর্পোরেটরা যার সতীর সতীত্ব বেশ্যার সুখ দুইই চায়. চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদ উৎসারিত বিকৃত, উদযাপন স্বর্বস্ব সংস্কৃতির নোংরা স্রোতে সংগ্রামী চেতনাকে নিমজ্জনের হাত থেকে কেউ কি রক্ষা করবে না? সেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কেউ কি স্লোগান মুখর ঝাঁঝালো মিছিলে উচ্চারণ করবে না, "14 ই ফেব্রুয়ারি দিচ্ছে ডাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক ".তবে কি কর্পোরেট সংস্কৃতির কাছে নতজানু, ম্রিয়মান হয়ে পড়বে আমাদের অনিরুদ্ধ সংগ্রামী তেজ, শৌর্য? কিন্তু এখনো হতাশ হই নি কিংবা হতাশ হতে চাই না .জানি, বিশ্বাস করি এ কথা মিথ্যা হতে পারে না যে ইতিহাস কথা কয়. ইতিহাস প্রেরণা নিয়ে হাজির হয়.ভুলিয়ে দেওয়ার, ভুলে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই যখন দেখি সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠে, শত দমন পীড়নের পরও নির্ভীক অপরাজেয় বাংলার ছাত্র সমাজ পর্বতের মত অবিচল থাকে তখন জয়নাল-মিলন-নূর হোসেন আবারো নজরুলের সেই দুরন্ত পথিকের মত হাজির হয়. জয়নালের উদ্দেশ্যে আমাদের তখন বলতে হয়- '' সহস্র প্রাণের উদ্বোধনই তো তোমার মরণের স্বার্থকতা '' তিউনিসিয়া থেকে মিশর, জর্ডান থেকে আলজেরিয়া যেখানেই সামরিক স্বৈরশাসন সেখানেই মৃত্যুঞ্জয়ী জয়নাল-বারুজিজদের আত্মা ঘুরে বেড়ায়. আর পালিয়ে বাঁচতে হয় এরশাদ, বেন আলী, হোসনে মোবারকদের. যুগে যুগে অনিবার, শতবার ...

সাতটি গোপন কথা যা আপনার স্ত্রী কখনও বলবেন না

 বেশীরভাগ পুরুষেরই নারীদেরকে বুঝে উঠা প্রায়শই খুব কষ্টকর হয়ে যায়. এমনকি সেই নারীকেও যার সাথে সে বহু বছর বিবাহিত জীবন পার করেছে. এক মুহূর্তে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পর মুহূর্তেই হয়ত শিশুর মত কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন. তিনি কোন কিছু নিয়ে অভিযোগ করছেন, আপনি হয়ত সেই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় তার নানারকম উপায় তাকে দেখাচ্ছেন কিন্তু তাতেও তিনি সন্তুষ্ট হচ্ছেন না. আপনার স্ত্রী কি বলছেন তা নিয়ে বেশী দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবেন না; বরং তিনি যা বলছেন না সেটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন.

 1) সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আপনার করা মরণকাল আপনার করা ভালবাসা উইণ্ডো ● যখন এর উপর মরণকাল তার স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কম দেখায়, বিনিময়ে স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কমে যায়. ● যখন স্বামী স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা কম দেখায়, বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়. এবং এটি একটি দুষ্টচক্র যা চলতেই থাকে. এই চক্র শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙ্গে ফেলুন ►. আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন. তিনি ঠিক সেটাই চান. তার ভুলত্রুটি, দোষ থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালবাসুন. ইন শা আল্লাহ, তিনিও আপনাকে আপনার ভুলত্রুটি ও দোষ থাকা সত্ত্বেও শ্রদ্ধা করবেন.

 ২) আপনার করা মরণকাল একঘেয়েমিতে ক্লান্ত প্রতিটি দিন একই রকম. সপ্তাহ আসে, সপ্তাহ যায়. এই একঘেয়েমিতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত. তাকে সন্তান প্রতিপালন করতে হয়, সংসার সামলাতে হয়, তারপর আবার আপনার প্রয়োজন মেটাতে হয়, আপনার মন রক্ষা করতে হয়. প্রতিদিন এমনটি করতে হবে ভাবতেই তো কোথাও পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে পুরুষদের. ভেবে দেখুন যে কোন সাধারণ মুসলিমা স্ত্রীর কেমন অনুভূতি হয়. আর কর্মরত নারীদের কথা ভুলে গেলে হবে না. . অনেক নারীকে সারাদিন চাকরি করে এসেও সংসার সামলাতে হয় , কাজেই ভাইয়েরা আমার ► করজোড়ে আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনার স্ত্রী কে সেই অনুভূতিটি উপহার দিন যে - তিনি বিশেষ. তাকে একটু একঘেয়েমি থেকে ছুটি দিন. তাকে মাঝে মাঝে বাইরে খেতে নিয়ে যান. অথবা তার জন্য তার প্রিয় খাবারটি বাইরে থেকে কিনে আনুন. অথবা তাকে নিয়ে এমনিই কোথাও বেড়িয়ে আসুন. কিছু একটা অন্তত প্রায়ই করুন, তার একঘেয়েমির বন্দিদশা ভেঙ্গে দূর করে দিন.

 3) তিনি প্রশংসিত হতে উইণ্ডো প্রশংসা; কে না পেতে চায়? কেউ চায় না যে তার কষ্টের শ্রম কেউ লক্ষ্যও না করুক কিংবা এর চেয়েও খারাপ হল- সবাই তার সারাদিনের পরিশ্রমের কাজকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে তার সঠিক মূল্যায়ন টুকুও না করুক. আপনার স্ত্রী আপনার ময়লা কাপড় পরিস্কার করতে বাধ্য নন. তিনি আপনার খাবার তৈরি করতেও বাধ্য নন. তবুও তিনি সবসময় তা করে চলছেন. আর তিনি এসব তার জীবনের অন্যান্য অনেক কিছুর চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে করছেন. ● সন্তান প্রতিপালন ● কাজে অথবা স্কুলে যাওয়া ● আত্মীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ● আরও ভাল, মুসলিমাহ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া. ►আপনার স্ত্রীকে দেখিয়ে দিন যে আপনিও তার পরিশ্রমের গুরত্ব বোঝেন, এবং আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ কারণ তিনি তার সাধ্য মতো আপনার এবং আপনার পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন. একটি ছোট্ট 'ধন্যবাদ' দিয়ে শুরু করলেও মন্দ হবে না. 4) তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষাকাতর একারনেই তিনি বহুবিবাহ নামক দিয়ে চালু হবে বিষয়টি সহজে মেনে নিতে সম্পূর্ণ নারাজ. নিজেকে তার অবস্থানে বসিয়ে চিন্তা করে দেখুন, আপনিও মানতে পারেন কিনা. আপনার স্ত্রীর সামনে অন্য কোন নারীকে নিয়ে কোন কথা বলার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন. কক্ষনো আপনার স্ত্রীকে অন্য কোন নারীর সাথে তুলনা করবেন না. • কক্ষনো তাকে কোন নায়িকার সাথে তুলনা করবেন না. • কখনই তাকে আপনার মা অথবা বোনের সাথে তুলনা করবেন না. • ভুলেও তার সাথে আপনার আগের স্ত্রী বা অন্য স্ত্রীর (যদি থাকে) তুলনা করবেন না . তিনি এটা জানতে এবং বিশ্বাস করতে চান যে তাকে ঘিরেই আপনার জগত ►. কাজেই তাকে সেরকমটিই অনুভব করান. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণের যারা ​​সমগ্র নারী জাতির জন্য উদাহরন, এমনকি তাঁদের মধ্যেও এই ঈর্ষাটি ছিল. আয়েশা (রাঃ) ও, খাদিজা (রাঃ) কে নিয়ে ঈর্ষা বোধ করতেন যিনি তখন জীবিতও ছিলেন না. আপনার স্ত্রীর মধ্যেও এই ধরনের ঈর্ষার অস্তিত্ব জেনে রাখুন এবং তার মর্যাদা দিন.

 5) একজন ভাল, মুসলিমাহ হওয়ার ‧; তিনি আপনার করা সহযোগিতা উইণ্ডো পুরুষের তার পরিবারে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য. আর সেটাই আজকাল অনেক মুসলিম পুরুষের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে. তারা যে শুধু সঠিক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাই না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই সে স্ত্রীর (অথবা মা এর কিংবা তার জীবনের অন্য কোন নারীর) কথায় উঠছে, বসছে. আপনার স্ত্রী চান আপনি তাকে নেতৃত্ব দিন. কারণ নেতৃত্বের সাথে জড়িয়ে আছে দায়িত্বশীলতার বিষয়টি. আপনার স্ত্রী চান আপনি তার দায়িত্বও পরিপূর্ণ ভাবে গ্রহন করেন. আর একজন ভাল মুসলিমাহ হওয়ার পথে স্ত্রীকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? তবে মনে রাখবেন, এই নেতৃত্ব দেওয়াকে শাসন করার সাথে যেন গুলিয়ে না ফেলেন. এই নেতৃত্বের অর্থ সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়া ও সে পথ অনুসরণে যাবতীয় সহযোগিতা করা. ► কিন্তু আপনি নিজেই যদি উত্তম আদর্শের অনুসারী না হন তাহলে কি করে আরেকজনকে শেখাবেন যে কিভাবে ভাল হতে হয়? কাজেই আপনাকে আগে আপনার নিজের ঈমান মজবুত করতে হবে. আগে নিজেকে শুধরাতে হবে, তারপর আপনার স্ত্রীকেও ভদ্রতা, মর্যাদা, এবং হিকমতের সাথে বুঝাতে হবে. উদাহরণ স্বরূপ, আপনার স্ত্রী যদি ঠিক মতো পর্দা না করেন তাহলে প্রথমে তার জন্য এমন পোশাক পরিচ্ছদ কিনে আনুন যাতে তিনি ঠিক মতো পর্দা করতে পারেন. তারপর তাকে প্রশংসা করে বলুন যে আপনি তাকে একজন সম্ভ্রান্ত নারী রূপে দেখতে ভালবাসবেন, এবং তাকে এমন পোষাকে দেখতে চান যে পোশাক আল্লাহ্ কে সন্তুষ্ট করবে. তিনি যদি নিয়মিত সালাত আদায় না করেন, সংসারের কাজের অজুহাত দেখান, আপনি তার কাজে সাহায্য করে তার জন্য 15-২0 মিনিট সময় বের করে দিয়ে আগে সালাত আদায় করে নিতে বলুন. আপনিই সবচেয়ে ভাল বুঝবেন কিভাবে বললে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি মনে আপনার কথা শুনবেন.

6 ) তিনি ক্রমাগত অভিযোগ করতে ভালবাসেন না, কিন্তু মাঝে মাঝে আপনিই তাকে বাধ্য করেন সবাই এটা মনে করেন যে নারীরা সোনা পাওয়ার জন্য এবার স্বামীদের সাথে খুঁতখুঁত বেশীরভাগ পছন্দ করেন. কিন্তু সেটা পুরোপুরি সত্য নয়. হ্যা, কিছু মানুষ (নারী এবং পুরুষ) এমন আছেন যাদেরকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যায় না. আপনি যা-ই করুন না কেন, তারা সেটাতে দোষ ধরবেনই. আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন- "আমাকে জাহান্নাম দেখান হয়. (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারণ) তারা কুফরী করে. জিজ্ঞাসা করা হল, 'তারা কি আল্লাহ্র সাথে কুফরি করে?' তিনি বললেন, 'তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে. তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারও প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, 'আমি কখনও তোমার কাছ থেকে ভাল ব্যবহার পাইনি.' [সহীহ বুখারীঃ ২8; ইফা] কাজেই, বোনদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ যে, তাদের স্বামীরা তাদের জন্য যা করেন, তা যেন তারা তুচ্ছজ্ঞান করে অকৃতজ্ঞতা না করেন. ► কিন্তু, ভাইয়েরা প্রায়শই তাদের স্ত্রীর জন্য জিহ্বা সংযত রাখা কঠিন করে দেন. লক্ষ্য করে দেখুন, আপনিই হয়তো প্রশংসার বদলে সবসময় স্ত্রীর দোষ ধরছেন আর তিনিও পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য আপনার খুঁত খুজে বের করছেন. কিংবা হয়তো আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট কাজ করছেন না (হতে পারে তা সাংসারিক টুকটাক সহযোগিতা) যা পুষিয়ে নিতে তাকে বাড়তি খাটুনি করতে হচ্ছে. অথবা হয়তো আপনি মানুষ হিসেবে খুব বেশী আদর্শ নন. সবশেষে আবারো বলছি, আগে নিজের ভেতর উন্নয়ন ঘটান; আপনার স্ত্রীর খুঁতখুঁত এবং অভিযোগ করার সুযোগই কমে যাবে. 

7) সবচেয়ে বেশী তিনি চান, আপনার করা সাথে KDM 'স্থায়ী ও সুখী সম্পর্ক নারীরা এটা ভেবে বিয়ে করে বাসসের যে 'বিয়ে করে খুব মজা হবে.' তারা বিয়ে করেন কারণ তারা একটি সুখী সংসার জীবন চান; এবং তারা আশায় থাকেন যে আপনি তাকে তা দেবেন. ধর্মীও দায়িত্ব ও কর্তব্যের পর এটাই একজন মুসলিমাহ নারীর প্রধান চাওয়া- একটি সুখী, স্থায়ী, মুসলিম পরিবার গড়ে তোলা. মজার ব্যাপার হল, এটা দেওয়া আপনার জন্য খুবই সহজ কাজ. ► ক) বোধহীন মানুষের মতো আচরণ করবেন না. তার জন্য একজন ভালো স্বামী হন. তার প্রতি আপনার ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করুন. খ) কখনও তাকে তালাক বা আরেকটি বিয়ের ভয় দেখাবেন না. হ্যাঁ, আপনার তা করার অধিকার আছে. কিন্তু এই বিষয়গুলোকে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা আপনাদের সাংসারিক জীবনের জন্য অনুপযোগী এবং ক্ষতিকারক. এরকম ভীতি দেখিয়ে কখনও কল্যাণ আশা করতে পারেন না. কারণ এধরনের ভীতি কখনই তার মনে আপনার জন্য শ্রদ্ধা বা ভালবাসা বাড়িয়ে দেবে না, বরং উল্টোটাই হবে. গ) আল্লাহ্র উপর ভরসা রাখুন. শয়তানের প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকুন. স্ত্রীর বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করুন. অন্য সবকিছুর চেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদে সবচেয়ে বেশী আনন্দিত হয় শয়তান. দেখলেন? সবকিছু এতটা কঠিনও না এখন, তাই না?

একজন মা হিসাবে যে কাজগুলো আপনার কখনোই করা উচিত না

একজন মা তখন জন্ম নেন, যখন একটি সন্তানের জন্ম হয়. তবে কেবল সন্তানকে জন্ম দিয়েই মা হওয়া যায় না, বরংএকজন পরিপূর্ণ "মা" হয়ে ওঠে অনেকটাই চর্চার বিষয়. একটি শিশু যেমন তিল তিল করে হয়ে ওঠে কারো সন্তান, তেমনই একজন নারীও সেই শিশুটির সাথে একটু একটু করে হয়ে ওঠেন একজন মা. কিন্তু সকল মা-ই কি জানেন ও বোঝেন যে সন্তানের ভালো চাইলে কোন কাজগুলো করা উচিত আর কোন কাজগুলো নয়? আমাদের দেশের অসংখ্য মা প্রতিদিন না বুঝে এমন অসংখ্য কাজ করছেন, যেগুলো মা হিসাবে করা একান্তই অনুচিত. কেননা এইসব কাজ সন্তানের ওপরে ফেলে খুবই ভয়ংকর প্রভাব. আসুন, আজ জেনে নিই এমনই 8 টি কাজের কথা.
1) আমাদের সমাজে ছেলেমেয়ে মারধোর করা অসংখ্য পিতা মাতার বদ অভ্যাস. তারা মনে করেন সেভাবেই সন্তানকে বাধ্য রাখা যায়. কিন্তু আসলে ফল হয় উল্টো. সন্তানকে কখনো মারধোর করবেন না. সন্তানকে শাসন করার অনেক উপায় আছে. গায়ে হাত তোলা কোন উপায় হতে পারে না.

 ২) সন্তানদের সামনে কখনোই স্বামীর সাথে ঝগড়া করবেন না. কিংবা রাগের মাথায় সন্তানদের কাছে স্বামীর নামে বদনাম করবেন না. কোন পরিস্থিতিতেই না.

3) স্বামীর সাথে আপনার বনিবনা নাও হতে পারে. এমনও হতে পারে যা আপনারা হয়তো বিচ্ছিন্ন আছেন বা ডিভোর্স নিতে চলেছেন. কিন্তু এমন অবস্থা হলে সন্তানকে এসবের মাঝে টানবেন না. কিংবা তাঁকে এটা সেটা বুঝিয়ে নিজের পক্ষে করতে চাইবেন না. 

4) কখনো এমন কিছু করবেন না যেটায় আপনার চরিত্র নিয়ে সন্তানের মনে সন্দেহ বা ঘৃণা দেখা দেয়. জীবনে অনেক পরিস্থিতিই আমাদের জীবনে আসে. কিন্তু মা হিসাবে আপনি তখনই সম্মান পাবেন, যখন মানুষ হিসাবে সম্মানের যোগ্য হবেন. 

5) সন্তানদের অবহেলা করবেন না. আপনি হয়তো খুব ব্যস্ত বা খুব অশান্তিতে আছেন. কিন্তু মনে রাখবেন, সন্তানকে অবহেলা করা কোন অবস্থাতেই মায়ের কাজ নয়.

 6) সন্তানের সামনে বা সন্তানদের দিয়ে কিছু করানোর জন্য কখনোই মিথ্যা বলবেন না. এটার ফলাফল অনেক ভয়ানক ভোগ করতে হবে.

 7) কখনো অন্যদের সাথে নিজের সন্তানকে তুলনা করে তাঁদের মনে কষ্ট দেবেন না, পৃথিবীতে কাউ কারো মত নয়. নিজের সন্তানদের তাঁদের মত করেই মেনে নিন.

 8) কখনো খারাপ ভাষায় কথা বলবেন না কিংবা সন্তানদের সামনে গালাগাল করবেন না.

নতুন সম্পর্কের টান


 নতুন সম্পর্কে বিশ্বাসী আমরা, পুরনোকে ভুলে যাই. তাই মাঝে মাঝে নতুন সম্পর্কের ভিড়ে কেন জানি সেই পুরনো সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায় ... সম্পর্ক মানেই কিছু আবেগ, অনুভূতি আর অদৃশ্যময় বন্ধনের আবদ্ধতা. আমরা কেউই সে আবদ্ধতার বাইরে নই. জীবনের প্রয়োজনে কিছু আধো ছেঁড়া সম্পর্কও তাই আমাদের মেনে নিতে হয়. মেনে নিতে হয় সম্পর্কের লাঞ্ছনা-বঞ্চনাসহ আরও কত কী! তাই তো অবস্থানভেদে সম্পর্কের সংজ্ঞাও অনেক হয়. কখনও কখনও সম্পর্ক একপ্রকার মায়া. সে মায়া আমরা কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারি না. পারি না সে অদৃশ্য বন্ধনের অদৃশ্য সব গিঁট খুলে দিতে. এতদসত্ত্বেও সম্পর্কের কিছু টান বেশিদিন টিকে থাকে না. আবার একেবারে ছিঁড়েও যায় না. তবুও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন আসে. সেই সঙ্গে নতুন নতুন সম্পর্কের বিষয়ে টান আসে. নতুন সম্পর্কের আড়ালে এক সময় পুরনো সম্পর্ক আকাশের গাঢ় মেঘের আড়ালে লুকিয়ে রয়. নতুনের ডাকে আমাদের মাঝে পুরনো সম্পর্কের অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়. এদের কেউ হারাতে হারাতে একবারে অভিমান নিয়ে হারিয়ে যায়. নয়তো বদলায়. নিজের জীবনশৈলীকে পাল্টায়.
এত সম্পর্কতেও পরিবর্তন আসেতে পারে. স্থায়ীভাবে জোড়া লেগে যেতে পারে ধূসর হাওয়ার সম্পর্কগুলো. আমাদের চারপাশের যত সম্পর্ক রয়েছে সবগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়. এর প্রথমটি পারিবারিক সম্পর্ক আর দ্বিতীয়টি সামাজিক সম্পর্ক. পারিপাশর্ি্বক বিবেচনায় বেঁচে থাকতে এ দুটি সম্পর্কের প্রতিই আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে বলে মনে করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (এমবিবিএস, এমডি-সাইকিঅ্যাটরি) ডা. ওয়াসিমা রহমান. তিনি বলেন, আমাদের মাঝে কিছু সম্পর্ক রয়েছে যা ভেঙে ফেলাই ভালো. যেমন পরিবার বা বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি নেশাগ্রস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে ফেলাই ভালো. তবে সম্পর্কটি ভাঙার আগে তাকে সুস্থ পথে ফেরানোর চেষ্টা করা উচিত. সম্পর্ক আড়াল যদি আমার থেকেই হয়, তবে তার সব দায় আমারই_ এটা স্বাভাবিক. তাই প্রথমেই আমাকে যে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো, পরিবার বা সামাজিক কোনো সম্পর্কের গুরুত্বটা আমার কাছে বেশি. ওই মুহূর্তে যে সম্পর্কটা মেনে চলা উচিত, তখন আমাকে সেদিকেই আগে যেতে হবে. আমাদের সমাজে বিয়ের মাধ্যমে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের আড়াল বেশি সৃষ্টি হয়. তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজনটার গুরুত্ব বেশি দিতে হবে. ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে সময় দিতে হবে. বাবা-মা, ছেলেমেয়ে এমনকি স্ত্রীকেও সময় দিতে হবে. পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এই নিয়মের বাইরে কখনোই কিছু নয়. তবে সম্পর্কের বাইরের আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীকে যতটুকু সম্ভব সময় দিতে হবে. মনে রাখতে হবে আমাদের চারপাশের সব সম্পর্ক আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার একেকটি উপাদান. সম্পর্ক বিষয়টি দ্বৈত. এর এক পাশ আড়াল হবে তো অন্য পাশ জেগে উঠবে. তাই কখনো যদি মনে হয়, 'আমাকে কেউ আড়াল করতে চাইছে' তখন নিজেরও কিছু করার থাকতে পারে. প্রথমেই বুঝতে হবে যার দ্বারা সম্পর্ক আড়াল হচ্ছে সে কী আদৌ তা ইচ্ছা করে করছে, নাকি আপনার প্রতি তার মাঝে কোনো ভুল ধারণা জন্ম নিয়েছে? এমন কিছু প্রশ্ন যদি আপনার মনে জাগে সে ক্ষেত্রে আপনি তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারেন কেন সে এমনটি করছে. সে যদি ব্যস্ততার প্রসঙ্গ তোলে তাহলে তা নিয়ে আপনাকেই ভাবতে হবে. তার ব্যস্ততায় আপনাকেই সম্পর্কের হাল টেনে ধরতে হবে. আপনাকে নিয়ে তার মধ্যে কোনো বিরূপ ধারণা জন্মালে আপনার দ্বারাই সে মুখোশ উন্মোচন করতে পারেন. এতে সম্পর্ক থাক বা না থাক আপনার প্রতি অন্তত তার ভুল ধারণার অবসান ঘটবে. মনে রাখবেন, সম্পর্কের টান যদি দু'দিক থেকেই ছিঁড়ে যায় তবে তা জোড়া লাগানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে.

* তোমায় ভালোবেসে আর কত কাদবো * ~~~ সত্যি অনেক হৃদয়স্পর্শী ~~~ →→ KDM 'সত্য ঘটনা অবলম্বনে →→

মার একটা চোঁখ ছিল. আমি তাকে দেখতেই পারতাম না. সব জায়গাতেই তার জন্য আমার লজ্জা পেতে হত. তার বিদঘুটে চেহারা দেখে সবাই আমাকে উপহাস করত. আমি সবসময়ই বলতাম যে তুমি মরতে পারনা ?? তোমার জন্য আর কত হাস্যকর পাত্রে পরিণত হব আমি ?? যাই হোক, এক সময় আমি উচ্চশিক্ষার জন্য বাহিরে পড়তে গেলাম. সেখানে সফল ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমি বিয়ে করলাম. আমি আমার স্ত্রী আর ২ টি মেয়ে নিয়ে বেশ ভালই সুখে ছিলাম. একদিন মা আমার সাথে দেখা করার জন্য আসলেন. এত বছরের মধ্যে আমার বা আমার পরিবারের কারো সাথে মার দেখা হয় নাই.
মা যখন দরজার সামনে দাঁড়ালেন, তখন আমার সন্তানেরা মা'কে দেখে হেসে ফেলল. আমি লজ্জায় তখন তাকে ধমক দিয়ে বললাম, "কে আপনি? এখানে কেন এসেছেন? আপনার সাহস কত যে আপনি আমার সন্তানদের ভয় দেখাচ্ছেন?" মা বুঝতে পেরে বলল, ওহ! দুঃখিত. আমি ভুল জায়গায় এসেছি. কিছুদিন পর আমি এক নিকট প্রতিবেশীর কাছে খবর পেলাম যে আমার মা মারা গেছে. আমার মাঝে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হলনা. আমি গেলাম আমাদের সেই পুরনো বাড়িতে. একজন প্রতিবেশী আমাকে একটি চিঠি দিয়ে বলল যে আমার মা আমার কাছে দিতে বলেছেন. আমি চিঠিটি পড়া শুরু করলাম. >>>>> "আমার প্রানপ্রিয় পুত্র, আমি সবসময় তোমাকে নিয়েই ভাবি. আমি অতিশয় লজ্জিত যে আমি তোমার সন্তানদের ভয় দেখিয়েছিলাম. আমি খুবই দুঃখিত যে আমি সবসময়ই তোমাকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছি. দেখ, আসলে তুমি ছোটবেলায় খুবই ভয়ংকর এক্সিডেন্ট করেছিলে, যার জন্য তোমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়. মা হিসেবে আমি তা মানতে পারিনি. তাই আমি তোমাকে আমার একটি চোখ দিয়ে দিই. আমি মা হিসেবে খুবই আনন্দিত যে আমার ছেলে এই দুনিয়াকে প্রানভরে দেখছে. তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি.
 তোমার মা. 
" আমার কিছুই বলার নেই. একটা কথাই বলবো, মা-বাবার প্রতি বিরূপ না হয়ে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা দেখান. তাঁদের মনে কষ্ট দিয়েন না.      
                                              
Copyed from: http://rafiqsir.blogspot.com/

* ভালোবাসা এবং ভালো বাসার মধ্যে ১০ টি পার্থক্য *

 ভাষাগত সমস্যার কারণে ইদানীং ভালোবাসা এবং ভালো বাসার মধ্যে যে সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তারই পার্থক্যমূলক একটি ছক নিচে উল্লেখ করেছি. বর্তমানে যাদের মধ্যে নব ভালোবাসার উদ্ভব হয়েছে এবং পুরনো ভালোবাসা অন্তরে নিহিত আছে, তাদের জন্য এই ছক কতটা কার্যকর ভেবে দেখুন. 

যারা নতুন বাড়ি বা বাসা বানাচ্ছেন অথবা পুরনো মালিক, তাদের জন্য কতটুকু প্রযোজ্য, সময় নিয়ে ভাবুন. ফেব্রুয়ারি মাসের 14 তারিখ ভালোবাসা দিবস. ভালোবাসার এই মাসে কিঞ্চিৎ যাচাই-বাছাই করে নিই কোনটা সত্যি! মনের ভালোবাসা, নাকি থাকার ভালো বাসা! ভালোবাসা ভালো বাসা মনে মনে মিল হলে দ্রুত ভালোবাসা হয়ে যায়. অনেক খুঁজেও মনমতো ভালো বাসা পাওয়া যায় না. যদিওবা পাওয়া যায় ভাড়া বেশি.
  1.  ভালোবাসা করতে সুন্দর চেহারা এবং ভালো মনের মানুষ লাগে.
  2.  ভালো বাসা বানাতে অনেক টাকা লাগে.
  3.  ভালোবাসা হলে প্রেয়সীকে নিয়ে ঘুরতে হয় এবং মাঝেমধ্যে চাইনিজও খাওয়াতে হয়.
  4.  ভালো বাসার মালিক হলে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয়. 
  5. ভালোবাসা হলে ভালোবাসার মানুষের কথামতো চলতে হয়. না চললে সম্পর্কের অবনতি হয়. 
  6. ভালো বাসা ভাড়া দিলে ভাড়াটিয়া এবং মালিকের মধ্যে নানা বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়.
  7.  ভালোবাসা ভালো লাগে যদি ভালোবাসার মানুষের ব্যবহার, আচার-আচরণ ভালো হয়. 
  8. ভালো বাসা সুন্দর লাগে যদি নির্মাণে মোজাইক, টাইলস এবং আধুনিক ফিটিংস ব্যবহার করা হয়. ভালোবাসা করতে বিভিন্ন উপাদান লাগে. যেমন_ মানুষ, সৌন্দর্য, মন এবং অর্থ. ভালো বাসা বানাতে বিভিন্ন উপাদান লাগে. যেমন_ উন্নতমানের ইট, বালু, সিমেন্ট এবং রড. ভালোবাসায় অর্থ খরচ, মিথ্যে বলা এবং সময়ের অপচয় হয়. ভালো বাসায় দরজা, জানালা এবং ছাদ থাকে.
  9.  ভালোবাসা শান্তি দূর করে. অশান্তি বিরাজ করে.
  10.  ভালো বাসায় শান্তিতে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায় না. 

            ভালোবাসা মনের ব্যাপার. ভালো বাসা আবাসনের সু-ব্যবস্থা করে.

* ভালোবাসার পোস্টমর্টেম *

 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' 'আমি তোমার এমন কথা যদি কেউ আপনাকে বলে, তবে বুঝবেন আপনার প্রতি বক্তার একটা ভালোলাগা কাজ করছিলো বহুদিন থেকেই প্রেমের. কেননা, চট করে কেউ কাউকে এ কথা বলতে পারে না. বলার আগে বক্তার ভেতরের যে আবেগ কাজ করে, তা একদিনে জন্মায় নি. ' ভালোবাসা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অনেকেই এভাবে বলেন.

 আবার প্রথম দেখায় প্রেম, অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে. এটা নিছক প্রেম না মোহ এটা বিচার করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না. তবে প্রথম দেখায় প্রেম হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ঘর বেঁধেছে. এটিও সত্য. ভালোবাসতে কিংবা ভালোবাসা পেতে যে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই. একটা ছন্দ পড়েছিলাম, রবীন্দ্রনাথের,

 'প্রেমের এই ফাঁদ পাতা ভূবনে 
 কে কখন ধরা পড়ে কে জানে.'
 তাই কখন প্রেমে পড়বেন, এটা বলা দুষ্কর. এমনটাও কেউ কেউ বলেন 'দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছরও কেটে যাওয়ার পরও, একই সাথে বসবাস করেও ভালোবাসি কথাটি শোনার সৌভাগ্য অনেকের হয় না. যাদের হয় না, তারা দুর্ভাগা. ভালোবাসতে গেলে বা ভালোবাসা পেতে গেলে গুণের দরকার, এটা চেহারায় পায় না. আবার, একটা প্রবাদ আছে,
 'আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারি' এটিও ফেলে দেবার মতো নয়. কেউ যদি কারো চেহারার সৌন্দর্য দেখে প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তবে তার স্থায়িস্থটা কমই হয় বৈকি. মান্না দে যদিও গেয়েছেন,
 'ও কেন এতো সুন্দরী হলো 
 অমনি করে ফিরে তাকালো 
দেখে তো আমি মুগ্ধ হবোই
আমি তো মানুষ ....
কিন্তু কেউ যদি কারো পাশে থেকে, তার ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে তার স্থায়ীত্বটা দীর্ঘ হয়, এমনটাই দেখা গেছে. কেননা দেহজ সৌন্দর্য একটা সময়ে আর প্রকট থাকে না. পক্ষান্তরে মনের সৌন্দর্য সবসময়ই আকৃষ্ট করতে পারে. তাই যদি না-ই হতো, তবে বয়ষ্ক যতো দম্পতি আছেন, তারা একে অন্যকে রেখে পালাতেন. দর্শনধারী এবং গুণবিচারি দুটোই গুরুত্বপূর্ণ. কিন্তু দর্শনধারী এবং তার পাশাপাশি যদি কারো সুন্দর, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বা গুণ থাকে, সেক্ষেত্রে ভালোবাসাটা অনেক অনেক দীর্ঘস্থায়ীত্ব লাভ করে. কারো প্রকৃত ভালোবাসা পেতে হলে ব্যক্তির দৈহিক সৌন্দর্য এবং মনোজগতের সৌন্দর্য দুটোরই দরকার. প্রথমটার প্রতি আকর্ষণ প্রথম দেখাতেও হয়ে যেতে পারে আবার অনেকটা সময়ও লাগতে পারে. আর মনোজগতের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় সহাবস্থানের ফলে. এ দুটো বিষয় যার ভেতর আছে, তার প্রতি দিনে দিনে ভালোলাগা কাজ করতে থাকে. এ ভালোলাগাগুলো জমতে জমতে বুকের ভেতরে ভালোরকমভাবে বাসা বেঁধে ফেলে. আর যায় কোথায়! মুখ ফসকে এক সময় বলে বসে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'. তো! ভালোবাসা হয়ে গেলো! এখন! ভালোবাসা শব্দটির যদি পোস্টমর্টেম করি তো দাঁড়ায়, ভা- ভালোর বসত, ল- লক্ষ্যের প্রতি আকর্ষণ, বা- বাধা ডিঙানো এবং সা- সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার সাধনা. অপরদিকে ইংরেজি খঙঠঊ হচ্ছে, এল- লস্ট অব হার্ট, ও- ওশেন অব টিয়ার, ভি- ভ্যালি অব সরে্যা এবং ই- ইন্ড অব লাইফ. বাংলা পোস্ট মর্টেমটা আমার আবিষ্কার, ইংরেজিটা ম্যাগাজিনে পড়া. কোন ম্যাগাজিনে পড়েছি মনে না থাকলেও অন্তত ইংরেজিটার মতো আমি কাউকে নিরুৎসাহিত করি নি এই যা রক্ষে. নইলে বাংলাদেশে একটা বিশেষ দিনকে পালন করতে তরুণ-তরুণীরা যেভাবে অতি উৎসাহী হয়ে উঠে, তাদের নিরুৎসাহিত করে শেষতক মার খাবো নাকি! ভালোবাসার বা প্রেমের পরিণতি কী? কী আবার! প্রেমের পরিণতি হয় মিলন নয়তো বিরহ. ভালোবাসা এমন মোহনীয় শক্তি, এটা মিলনে যেমন থাকে তেমনি বিরহেও থাকে. শরৎচন্দ্র বলেছেন, 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়.' ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত মিলনে গড়ায় এমনটাই সচারাচর ঘটে থাকে. কিন্তু দেহজ ও মনোজ সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হবার পর ভালোবাসার ভয়ে পালিয়ে বেড়ানোর মতো দুর্ভাগাও জগতে আছে. ভালোবাসার অনুভূতি কেমন! এক কথায় বিচিত্র. 'ভালোবাসি' কথাটা প্রথমবারের মতো বলার বা শোনার মুহূর্তে আপনার যে অনুভূতি, এটা আপনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না. শ্যামল মিত্র যেমন গেয়েছেন,
'ভালোবাসো তুমি বলেছো অনেকবার 
তবো সেদিনেরও মতো লাগে নি তো কভূ আর 
 সেদিন আমার প্রথম ফাগুন বেলা
মাধবী শাখায় অনেক ফুলের মেলা
 সে ফাগুন আরও এসেছে যে বারেবার ....'
 প্রথমবারের মতো 'ভালোবাসি' শোনার সাথে সাথে আপনার ভেতরে একটা চনমনে ভাবের জন্ম নিতে পারে. শব্দের শক্তি আছে. ভালোবাসি শব্দের যে শক্তি এটা আপনার রক্তে একটা নাচন তুলতে পারে, ঝিমঝিম করে উঠতে পারে সারা দেহ. ভালোবাসি শব্দটার শক্তির আবেশে আপনি বিবশ হয়ে যেতে পারেন. আপনার অস্তিত্বে কাঁপন তুলতে পারে এ শব্দ. উলটপালট হয়ে যেতে পারে পরবর্তী জীবন. সুতরাং .... ভালোবাসার কি শ্রেণিবিন্যাস হয়! একশোবার হয়. ভালোবাসারও আছে রকমফের. সকাম ও নিষ্কাম প্রেম বা ভালোবাসা. এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়. ভালোবাসা সম্পর্কে এতোক্ষণ যে কথাগুলো বললাম, এটা প্রাপ্ত বয়ষ্ক নর-নারীর স্বাভাবিক প্রণয় বা প্রেম. এ ভালোবাসার সাথে দেহজ সম্পর্ক থাকবে. যে ভালোবাসা কামের দিকে ধেয়ে যায়, বুঝতে হবে সেখানে পাশাপাশি দুটি মেরুর অস্তিত্ব আছে, নর এবং নারী. যে ভালোবাসা সমস্ত সৃষ্টিজগতের জন্য, সেখানে কাম থাকবে না.
বিশ্ব প্রেমে পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি, করুণা, শ্রদ্ধা, ইত্যাদির অবস্থানটাই প্রকট থাকে. নিষ্কাম ভালোবাসাটা ব্যাপক অর্থে প্রকাশ পায়. স্রষ্টার প্রতি অবনত মস্তকে যে নিবেদন, এর পুরোটাই নিষ্কাম. বাবা-মা তার সন্তানকে ভালোবাসেন, ভাই তার বোনকে ভালোবাসে কিংবা বোন ভাইকে. ছোট বড়কে ভালোবাসে, বড় ছোটকে. এগুলোও নিষ্কাম. ভালোবাসা বয়স, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রভেদে হয় না.

1993 সাল থেকে বাংলাদেশে 14 ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে যে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়ে আসছে, সেটা আসলে কোন অর্থে গৃহীত? আমরা দেখছি, এ দিনটিকে একটি বিশেষ বয়সের নর-নারী অন্যরকমভাবে গ্রহণ করেছে. যেখানে নিছক আনন্দ আর উপভোগ প্রাধান্য পেয়েছে. মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেলে যা হয়, এখানেও তাই হয়েছে. আমার ভেতরে কৌতুহল ছিলো, কেন আমরা ভালোবাসা প্রকাশ করতে একটি বিশেষ দিনকে বেছে নেবো! কী আছে এর পেছনে? এটা কোন ধরনের ভালোবাসা, যে সবাই এ দিনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে? কেন এ ভ্যালেন্টাইন ডে? কে ছিলো ভ্যালেন্টাইন? কেনইবা 14 ফেব্রুয়ারি! এক ভ্যালেন্টাইন ছিলেন পাদ্রি এবং সেই সাথে চিকিৎসক. পাদ্রি মানে; উনি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন. সে সময় রোমানরা দেব-দেবীর পূজা করতো বিধায় রোমানরা তখন খ্রিস্টিয়ান ধর্মে বিশ্বাসী ছিল না. তাই ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২70 খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর আদেশে ভ্যালেন্টাইন এর মৃত্যুদ- দেয়া হয়. তিনি যখন জেলে বন্দী ছিলেন (২69 খ্রিস্টাব্দ) তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিতো. বন্দী অবস্থাতেই জেলার এর অন্ধ মেয়ের চোখের সফল চিকিৎসা করে দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হন এ সাধক. এতে মেয়েটির সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে. অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস 496 খ্রিস্টব্দে 14 ই ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস্ ডে হিসেবে ঘোষণা করেন. কেউ আরো একজন ভ্যালেন্টাইন এর নাম উল্লেখ করেছেন. যিনি রাজার আদেশ অমান্য করে প্রেম করেছিলেন এবং পরে বিয়ে করেছিলেন. আদেশটা হলো: কোন যুবক যুবতি বিয়ে করতে পারবে না. কারণ, ঐ সময়ে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহ করতে এ আদেশ করেন. ভ্যালেন্টাইন এ আদেশ অমান্য করেন, ফলে তার মৃত্যুদ- হয়. কী চেয়েছিলেন ভ্যালেন্টাইন- সকাম ভালোবাসা না নিষ্কাম?

ভালোবাসা দিবসে আপনি যা করবেন

এ পৃথিবীতে আমাদের চলতে গেলে অনেকের সাথে সম্পর্ক থাকে. পরিবার ছাড়াও বাইরে কোনও প্রিয় মানুষ হয়ে উঠতে পারে যেকোন কেউ. এই প্রিয়জন সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের ভালোলাগা ও ভালোবাসা দিয়ে. মানুষের প্রিয় ভালবাসার একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন শুধুমাত্রই ভালোবাসা. ভালবাসার বিনিময়েই ভালোবাসা পাওয়া যায়. এছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভালোবাসা পাওয়া যায়না. আমি তোমাকে ভালবাসি- এই ছোট্ট একটি লাইন আপনার সঙ্গীকে সুখী করতে, আপনার প্রেমকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে আর আপনার সম্পর্কটাকে আরও মজবুত করতে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে. সে ভালোবাসার সম্পর্ক চলমান থাকলে কিছু কিছু বিষয় এড়িয়ে যাওয়া ভালো. আর কিছু বিষয়কে আরো গভীরভাবে সঙ্গ দিতে হয়. নানা সমস্যা ও বিতর্ক থাকবে একটি প্রিয় ভালোবাসার সম্পর্কে. সেসব সমস্যা আর বিতর্ককে জয় করে ভালোবাসতে পারাই একটি ভালোবাসা সম্পর্কের কৃতিত্ব. ভালোবাসার পথচলায় যেসব বিষয়গুলো অন্তরঙ্গভাবে জড়িত থাকে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি হলো- জীবনের উত্থান-পতন: প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই একটা সময় আসে যখন মানসিকভাবে কিছুটা বিরক্ত, খুব চাপ যা "েছ মনের ওপর দিয়ে অথবা আপনি কিছুটা সময় একা থাকতে চান. এই ব্যাপারগুলো যেমন আপনার বেলায় ঘটতে পারে ঠিক তেমনি আপনার সঙ্গীর বেলাতেও ঘটতে পারে. প্রতিটি সম্পর্কেই জোয়ারভাটা আসে. এই জোয়ারভাটায় যতক্ষণ আপনি শারীরিক অথবা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হ "েছন ততক্ষণ সম্পর্কটা চালিয়ে যেতে পারেন. আপনার সঙ্গীর যখন খারাপ সময় যা "েছ তখন তাকে বলুন আই লাভ ইউ, দেখবেন জীবনের মধুর একটি দিন আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে. ক্ষমা কর "ন, ভুলে যান: বর্তমানের ভেতরে কখনওই অতীতকে টেনে আনা ঠিক নয়. অতীতের কোনও দুঃখজনক অথবা আপমানজনক কথা বারবার মনে করা একেবারেই অনুচিত. সঙ্গীর বিশ্বাসকে গ্রহণ করুন: দুটি মানুষ দুটি মতাদশের, ভিন্ন ধারার হবে এটাই স্বাভাবিক. আপনার মতের সঙ্গে মিলছে না বলে আপনি তার যুক্তিকে পাত্তাই দেবেন না, এই ভুল করবেন না. তার মতামতকে গুরত্ব দিন, গ্রহণ করুন. তাকে বোঝান যে, তার মতামতের যথেষ্ট গুর "ত্ব আপনার কাছে আছে. দেখবেন, সেও আপনার মতামতকে যথেষ্ট গুর "ত্ব দি" েছ. প্রয়োজন নিয়ে কথা বলুন: আমরা প্রায় সবাই একই ধরনের একটা ভুল করে থাকি. তা হলো, আমরা ধরেই নেই, কেউ যখন আমাকে ভালবাসবে, তখন সে আমার সব জেনেই ভালবাসবে. এই ধারণা মনের ভেতরে পুষে রাখা একেবারেই অনুচিত. আপনার সঙ্গী আপনার মনকে বুঝতে পারবে, এ ধারণা থেকে দূরে সরে আসুন. ভালবাসার মানুষকে ভালবাসি বলতে পারা সততার লক্ষণ. দ্বিমত পোষণ করতে ভয় পাবেন না: দুইজন মানুষের একটা মত হবে এটা ভাবা একেবারেই বোকামি. বরঞ্চ ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক. তাই বলে ভিন্ন ধারণা কখনও আপনার সম্পর্ককে নষ্ট করবে না.রাগ হয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে ফেললে কোনও লাভ নেই. আপনি যদি আপনার সঙ্গীর এই ব্যবহারের মূল কারণ জানতে পারেন তাহলে তা অভিযোগ করা থেকে ভালো হবে. কৌতূহল নিয়ে ভালবাসি বলুন. তার ভালো লাগবে. সমস্যার মুখোমুখি হোন: লাইফ ইজ নট এ বেড অব রোজেজ. জীবনে সমস্যা আসবে এবং সেগুলোকে মোকাবেলা করাটাই আমাদের লক্ষ্য. তাই কোনও সমস্যা এলে হতাশ হলে চলবে না. সমস্যাকে কখনও অবহেলা করবেন না. সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলুন. এমন তো হতে পারে সে আপনাকে ভালো একটা সমাধান দিতে পারে. আপনার অনুভূতি খুলে বলুন. আপনার সঙ্গীর কি ই "ছা তা জেনে নিন. তাহার কথাও শুনুন: দুজন মিলে যখন কোনও বিষয়ে কথা বলবেন তখন শুধু আপনিই বলে যাবেন এটা করবেন না. তার কথা শুনুন মনোযোগ দিয়ে, তার কথাকে প্রাধান্য দিন. দুজনের কথা থেকে ভালো একটা সমাধান বের হয়ে আসতে পারে. একসঙ্গে মজা করুন: খেয়াল করুন কি আপনাকে হাসায়. মুভি, কৌতুক অথবা কার্যকলাপ যাই আপনার পছন্দ আলাদা কর "ন. ভালোবাসি বলার আগে মনে রাখুন আপনার সঙ্গীর সেন্স অব হিউমার আপনার থেকে আলাদা হতেই পারে তাই বলে তাকে আপনি অবহেলা করবেন এটা তো হতে পারে না. অবহেলা না করে বরং একে শ্রদ্ধা করতে হবে. হতেও পারে তার সেন্স অব হিউমার আপনাকে অবাক করে দেবে. কাছাকাছি থাকতে হলে: বিয়ের আগে এক ধরনের জীবন থাকে. বিয়ের পর সেটার পরিবর্তিত রূপ দেখা যায়. এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই. জীবনে পরিবর্তন আসবে এটা মেনে নিতে হবে এবং মেনে নেওয়াটাই হবে স্বাভাবিক বিষয়. বিয়ের পরে হয়তো আপনি কিছুটা হলেও আলাদা হয়ে যাবেন. নানা ধরনের পরিবর্তন আসবে তখন. দৈনন্দিন র "টিন অথবা অর্থনৈতিক সংগ্রাম আসতে পারে এবং আপনি তখনই সফল হবেন যখন এগুলোকে ঠিকমতো চালনা করতে পারবেন. তাই বলে ভালবাসি বলতে ভুলবেন না, জীবন যত কঠিনই হোক তাকে সহজ করে নিতে হবে. তাই এমনভাবে ভালবাসি বলুন যাতে আপনার সঙ্গী বুঝতে পারে যে জীবনটা যতই কঠিন হোক না কেন আপনি তাকে আজীবন ভালবাসবেন এবং একসঙ্গে থাকবেন. লক্ষ্য এবং স্বপ্ন সম্পর্কে ধারণা দিন: আপনার জীবনের লক্ষ্য এবং স্বপ্ন সম্পর্কে আপনার সঙ্গীকে পরিষ্কার ধারণা দিন এবং তাকে এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে নিন. এ বিষয়ে তার মতামত নিতে চাইবেন. যখনই আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে জড়িয়ে নেবেন তখন এমনিতেই আপনার ভালবাসি শুনতে ভালো লাগবে. আপনি প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিন: একজন মানুষ ভুল করতেই পারে. আপনিও অনেক সময় ভুল করেন. তাই যেকোনও সম্পর্কেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন. দুজনেই যদি চলার পথটি মসৃণ করার চেষ্টা করেন তাহলে দুজনই সুখী হবেন. ভুলে যাওয়ার, ক্ষমা করার, পূর্ণ করার ই "ছা নিয়ে ভালবাসি বলুন. ভালবাসার মানুষকে আপনার মতো করে নিন: আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে আপনার মতো করে তুলুন. আপনি সম্পর্কে তাকে খোলাখুলিভাবে ফুটিয়ে তুলুন. তাছাড়া আপনিও তার মতো হোন যাকে আপনি পছন্দ করেন. শ্রদ্ধা কর "ন, অর্থপূর্ণ কাজ কর" ন, সামাজিক কাজে যুক্ত থাকুন, আপনার আগ্রহকে আবিষ্কার কর "ন এবং আপনার সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার কর" ন. এতে করে দুজনের মধ্যে ভালোবাস বাড়বে. দুজনই যদি দুজনার কাছে পরিষ্কার থাকেন তাহলে কোনও সমস্যাই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না. সহযোগিতা: ভেবে দেখুন তো, ছোটাবেলায় আপনার ওপর যখন বাবা-মা কিছু চাপিয়ে দিতেন তখন কি সেটা আপনার ভালো লাগত? মনে হয় না. তাহলে আপনার সঙ্গীর কেন ভালো লাগবে. কখনও আপনার সঙ্গীর ওপর সব ভার চাপিয়ে দেবেন না. হোক তা বা "চাদের দেখাশোনা করার কাজ অথবা ঘর পরিষ্কার কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ অথবা অর্থ উপার্জন করার বিষয়. তাকে সহযোগিতা কর "ন প্রতিটি কাজে. খারাপ সময়গুলোকে মূল্যায়ন কর "ন: ভুল সঙ্গী পছন্দ করেছেন? অথবা আসক্তির মতো ভালবাসার খারাপ দিক? একই ভুল বারবার করেছেন? যদি আপনার সম্পর্ক ভালো না হয় তাহলে কীভাবে ভালবাসি বলতে হবে তা জেনেও লাভ হবে না. তাই সঙ্গীর ভুলগুলোকে ধরিয়ে দিন.

আপনাকে বুঝতে হবে আপনি যে তার সঙ্গে একমত নয় তা ঠিক রেখেও কীভাবে তাকে ভালবাসি বলা যায়. জিজ্ঞেস কর "ন: মাঝে মাঝে আপনি বুঝতে পারেন না কীভাবে তিনি আপনার জন্মদিন অথবা আপনার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভুলে যান. জিজ্ঞেস কর "ন কেন, এটা নিয়ে